‘চোখের সামনে পরিবারের সবাইকে বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখলাম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে স্বজন হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নেপালের

2026-08-26T22:38:52+00:00
2026-08-26T22:38:52+00:00
 
  বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘চোখের সামনে পরিবারের সবাইকে বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখলাম’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম 
নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কালপনা মাল্লা। ছবি : বিবিসি
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে স্বজন হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কালপনা মাল্লা। তিনি বলেন, চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখেছেন তিনি।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় কালপনা মাল্লা বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা আমার চোখের সামনে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।’ তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা কেউই বন্যার স্রোত থেকে বের হতে পারেননি।

কালপনা বলেন, ‘তারা বন্যা থেকে বের হতে পারেনি। তাদের বাঁচার কোনো সুযোগই ছিল না। এই বন্যা আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তবে আমি আর আমার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচে গেছি। কীভাবে বেঁচে গেলাম, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

কালপনার ছেলে সুগাম মাল্লাও বন্যার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, মায়ের হাত ধরে তাকে নিরাপদে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। এর আগে নিরাপদে থাকা এবং সাহায্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি নিজের ফোনটি বোনকে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তার সঙ্গে আর কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সুগাম বলেন, ‘ফোনটিও বন্ধ। আমি আশঙ্কা করছি, সেও হয়তো বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে।’

বন্যায় শুধু প্রাণহানিই নয়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশুর। গোমা পণ্ডিত নামের আরেক নারী জানান, তাঁর মহিষসহ সব গবাদিপশু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। একই সঙ্গে তাঁর চাষের জমি এবং মজুত করা বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্যও নষ্ট হয়েছে।

গোমা পণ্ডিত বলেন, ‘আমার চাষের জমিও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ১০ বস্তা সরিষার বীজ, কয়েক টন ভুট্টা ও ধান—সবই চলে গেছে। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

নেপালের রসুয়া জেলায় বুধবার আকস্মিক এই বন্যা, ভূমিধস ও তুষারধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢলে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় ও ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু এবং কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সাত সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েও উদ্ধার অভিযান চলছে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেই পানি ভোতেকোশি নদীতে নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নেপাল সীমান্তের কাছেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাবে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধস বা পাহাড়ধসের কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে এখনো তথ্য সংগ্রহ ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে দুর্গত মানুষের স্বজন হারানো ও সর্বস্ব হারানোর করুণ চিত্র। কালপনা মাল্লার মতো অনেকেই পরিবারের সদস্য হারিয়ে এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 



  বিষয়:   নেপাল-তিব্বত সীমান্ত  বন্যা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: