
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) রসুয়া এলাকায় আকস্মিক এই দুর্যোগ আঘাত হানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ মাটি, পলি ও পানির স্রোত মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা ঢেকে ফেলছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
দুর্যোগের কারণে রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু ও কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
রসুয়া জেলা প্রশাসন পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহের কাজও চলছে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। পরে সেই পানি ভোতেকোশি নদীতে নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নেপাল সীমান্তের কাছে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং এর প্রভাব পড়ে জিরং বন্দরে। এতে সীমান্তবর্তী শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিভিন্ন ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় প্রবল পানির স্রোত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। উদ্ধারকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, এলাকায় একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধস বা পাহাড়ধসের ঘটনা থেকে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।