নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা ৩১ থেকে বেড়ে ৯৫ হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় থাকা ৩৪১ জন বিদেশির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্পের ফলে তুষারধসের সৃষ্টি হয়। পরে গলে যাওয়া তুষার ও বিপুল পরিমাণ পানি ভুটে কোশি নদীতে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
নেপাল ও তিব্বত, দুই দিকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার সময় ওই এলাকায় থাকা ২৯১ জন পর্যটক ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিকের অবস্থান এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।
বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোতে গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, সব নিরাপত্তা সংস্থা একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
ভুটে কোশি নদীর নিচের দিকে থাকা বেশ কয়েকটি এলাকাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।
কাঠমান্ডুতে থাকা এক চীনা ব্যবসায়ী বিবিসিকে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানের সাতটি পণ্যবাহী ট্রাক ছিল। ট্রাকগুলোর সব কর্মীই নেপালি। তাদের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ওই এলাকায় বন্যার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। বর্ষাকালে সেখানে মাঝেমধ্যে ভূমিধস হলেও এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে।
তিব্বতের অংশে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো জানা যায়নি। সেখানে সড়ক ও সেতু নির্মাণের কাজে থাকা এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠকের পর জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সদস্যদের সমন্বয় করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ এবং ৪৪ জন সেনাসদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।
রাসুয়া এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ভেঙে সৃষ্ট সেই বন্যায় ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা গত বছরের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও তিব্বত, দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
সূত্র : বিবিসি
সময়ের আলো/ইউএমএইচ