হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারত ও পাকিস্তানের জাহাজসহ ৪৫টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তেহরান। এসব জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষের তালিকায় ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন ও পরিচালিত বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মাহা রুস’কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘মারদান’ও রয়েছে তালিকায়।
জাহাজগুলোর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভারত-সংশ্লিষ্ট জাহাজের পাশাপাশি তালিকায় থাকা কয়েকটি জাহাজ অতীতে ভারতে বিশেষ করে জ্বালানি পণ্য পরিবহন করেছে। কালো তালিকাভুক্ত অধিকাংশ জাহাজের মালিকানা সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তালিকায় কাতার, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, মাল্টা ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও রয়েছে।
ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর ভবিষ্যৎ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এসব জাহাজকে জরিমানা, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
তালিকাভুক্ত কোনো জাহাজের সঙ্গে সহযোগিতা করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকেও কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজকে কারণ উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় নতুন নৌপথ চালুর চেষ্টা করছে ইরান। তবে সব জাহাজ ইরানের অনুমোদিত প্রণালির উত্তরাঞ্চলীয় পথ ব্যবহার করছে না।
এএফপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দেওয়া ৪৫টি জাহাজের অন্তত ১৪টি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি বা এর আশপাশে হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংস্থা এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও ঘটনাগুলোকে হামলা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করলেও এর জন্য কারা দায়ী, তা নির্দিষ্ট করেনি।
হামলার প্রায় সব ঘটনাই ওমানের উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি নৌপথে ঘটেছে। ইরান এই নৌপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এএফপির কেপলারভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের কালো তালিকায় থাকা ৪৫টি জাহাজের মধ্যে ৩৯টি পণ্যবাহী জাহাজ। মার্চের শুরু থেকে এসব জাহাজ অন্তত একবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। কোনো কোনো জাহাজ ১২ বার পর্যন্ত প্রণালিটি পার হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় এসব জাহাজের ১৭০টির বেশি যাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি যাত্রার পরবর্তী গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো বন্দর। প্রায় ৭০টি জাহাজও সেখান থেকেই সর্বশেষ পণ্য সংগ্রহ করেছিল।
এ ছাড়া ইরানের কালো তালিকায় থাকা অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জাহাজের মালিকানা সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বলে জানিয়েছে কেপলার।
সময়ের আলো/কেএইচ