মার্কিন বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার নেটওয়ার্কে চীনা হ্যাকাররা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, চীনভিত্তিক একটি হ্যাকিং কার্যক্রম তারা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিউস্ক্যান’ ও ‘কিউটিআরাউটার’ নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম চীন-সমর্থিত সাইবার হামলায় ব্যবহৃত হতো বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন আদালতে দেওয়া এক হলফনামায় বলা হয়েছে, হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু ছিল দেশটির জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও হামলার শিকার হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, চীনভিত্তিক নানজিং শিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি ওই হ্যাকিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক বাহিনীও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল হ্যাকাররা। তবে তাদের সব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
২০১৯ সালের আগস্টে নাসার নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে চালানো ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, এনআইএইচ, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সংস্থা এবং একটি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করা হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআই, এনএসএ ও মার্কিন সাইবার কমান্ডের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক থেকে সফলভাবে তথ্য চুরি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন সিনেট ও একটি হাসপাতালের নেটওয়ার্কে দুর্বলতা খুঁজে স্ক্যান চালানো এবং প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়।
তবে চীনা দূতাবাস অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, তারা নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত নন। তবে চীন সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী তা প্রতিহত করে।
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে বিভিন্ন চীনা সরকারি সংস্থার হয়ে কাজ করা বেসরকারি সাইবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে চীন-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার পরিধিও বাড়ছে।