ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালের ভয়াবহ বন্যা : যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার আগে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, সেটি কোনো ভূমিকম্পের কারণে নয়। বরং হিমবাহ ধস ও ভূমিধস থেকেই

2026-08-27T08:41:22+00:00
2026-08-27T09:04:10+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালের ভয়াবহ বন্যা : যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ সংস্থা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ এএম  আপডেট: ২৭.০৮.২০২৬ ৯:০৪ এএম
প্রতীকী ছবি
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার আগে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, সেটি কোনো ভূমিকম্পের কারণে নয়। বরং হিমবাহ ধস ও ভূমিধস থেকেই ওই কম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে কাঠমান্ডুর উত্তরে যে ভূকম্পন প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ। এর পরিণতিতেই downstream এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।

ইউএসজিএস স্পষ্ট করে বলেছে, ওই সময়ে কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি।

এর আগে প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুয়াগাধি সীমান্তপথের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বরফ ও পাথরের বড় ধরনের ধস নেমেছিল। এতে লেন্দে নদীতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষসহ পানির ঢল তৈরি হয়।

লেন্দে খোলা চীন থেকে নেপালে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীর একটি উপনদী। ধারণা করা হচ্ছে, শক্তিশালী ওই ধসের কারণেই হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। পরে ধসের ঘটনাটি ভূমিকম্পের সমতুল্য ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিব্বতের দিক থেকে ভোতে কোশি নদীতে প্রবল ঢল নামে। এতে নেপালের রাসুয়া, ধাদিং ও নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিহত ১৫৭, নিখোঁজ শত শত
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা জীবিত ও মৃতদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে তিব্বতের অংশে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, গিয়রং এলাকায় তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিব্বতের দিকের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, মানুষজন দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর কিছুক্ষণ পরই পাথর, কাদা ও পানির বিশাল ঢল ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

নুয়াকোট ও ধাদিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। ওই কেন্দ্র থেকেই হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে পুলিশ নিখোঁজদের তালিকা তৈরির সময় মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করছে।

বন্যায় বহু ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে কিংবা ভূমিধসে চাপা পড়েছে। দিনভর হেলিকপ্টারে করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধার করা হয়েছে।

গত বছরও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের একই অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ উপচে পড়ায় ওই বন্যা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই ঘটনায় নয়জন নিহত এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এবারের ঘটনার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও ইউএসজিএসের তথ্য— দুটিই ইঙ্গিত করছে, আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ও বরফ-পাথরের ধসই ছিল মূল কারণ।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  নেপাল  বন্যা  মৃত্যু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: