বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে মুদি পণ্যের দামে। বিশেষ করে ভোজ্য তেল, চিনি, আটা, ময়দা, ডিমসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে বোতলজাত ভোজ্য তেল ও চিনির সরবরাহ কমিয়েছে কোম্পানিগুলো। অনেক দোকানে তেল ও চিনি পাওয়া যায় না। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম সামান্য কমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই ময়দা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে দুই কেজি ময়দার প্যাকেটের গায়ে লেখা দাম এখন ১৬০ টাকা, যা ১৪০ টাকা ছিল।
অন্যদিকে তেল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির গায়েও লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।
মুদি দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। তারপরও বাজারে অনেক দোকানে চিনি মিলছে না, সরবরাহ বেশ কমে গেছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরে তারপর প্যাকেটজাত চিনি কিনতে পারছেন।
বিক্রেতারা আরও জানান, মূলত কোম্পানি (মিলগেট) ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে। মিলগেট থেকে আগের চেয়ে চিনির সরবরাহও কমেছে।
অন্যদিকে বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহও কমেছে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনও বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।
অন্যদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে।
ডিমের আগের উচ্চমূল্য এখনও বহাল রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সামান্য দাম কমেছে সবজির, স্থিতিশীল মাছ ও মুরগির বাজার
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি কক মুরগি ও মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ।
সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০, টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ ও করলা ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ৪০, আলু ৩০ এবং পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০, কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ৭০, গাজর ১২০ ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এক হালি লেবু ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিক্যাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০, ব্রয়লার ১৯০ এবং দেশি মুরগি ৭৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১১০০ থেকে ১২০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৮৯০ থেকে ২০০০ এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ আকারভেদে (চাষের) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০, প্রতি কেজি রুই মাছ (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, তেলাপিয়া ২৪০, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০, মলা ৫০০, বাতাসি টেংরা ১৪০০, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০, কাচকি মাছ ৫০০ এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও