ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় বেড়েছে তাপমাত্রা। তীব্র গরমের সঙ্গে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকায় সারাদেশেই অনুভূত হচ্ছে ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। তবে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার (৩০ আগস্ট) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গরমের তীব্রতাও কম অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে গরম অনুভূত হচ্ছে তা সাময়িক। রোববার থেকেই তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে রোববার থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। সাগরে ইতোমধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায়ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে, এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে সারাদেশে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
৩১ আগস্ট রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ওই দিনও সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
১ সেপ্টেম্বরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তাপ বের হয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে থার্মোমিটারে দেখানো তাপমাত্রার তুলনায় মানুষের কাছে গরম বেশি অনুভূত হয়।
সময়ের আলো/মহু