নেপালে আকস্মিক বন্যার পর নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ। কৈলাস মানসসরোবর তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে নেপালে যাওয়া অভিষেক ঘোনের কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার।
অভিষেক ভারতের মহারাষ্ট্রের কল্যাণের বাসিন্দা। গত ২৪ আগস্ট তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে কাঠমান্ডু পৌঁছান তিনি। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় তাঁর। সে সময় অভিষেক জানিয়েছিলেন, পরদিন ভোরে তাঁদের দল যাত্রা শুরু করবে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিষেক একটি ভ্রমণ বুকিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।
ছেলের সন্ধানে অভিষেকের এক বন্ধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। সেসব সরঞ্জাম থেকে তিনি নিরাপদ কোনো এলাকায় থাকতে পারেন— এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরিবার তা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাইছে না।
অভিষেকের বাবা বলেন, ‘তথ্যটি সত্য নাও হতে পারে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা তথ্য চাই।’
পরিবারের ভাষ্য, তীর্থযাত্রার আয়োজক দলের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৭০ থেকে ৮০ জন তীর্থযাত্রী ছিলেন। দুর্যোগের সময় তাঁরা পাঁচটি গাড়িতে ভাগ হয়ে ছিলেন।
বুধবার তিব্বত থেকে নেমে আসা আকস্মিক বন্যার পানি নেপালের মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিষেকের বাবা বলেন, প্রশাসনের ওপর তাঁদের কোনো ক্ষোভ নেই। তাঁরা শুধু ছেলের কী হয়েছে, সেটি জানতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের ওপর রাগ করিনি, মনও খারাপ করিনি। আমরা শুধু আমাদের ছেলের খবর চাই।’
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের আকস্মিক বন্যার পর মহারাষ্ট্রের কল্যাণ-ডোম্বিভলি অঞ্চল থেকে মোট চারজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ