নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জোর দিয়েছে দেশটির বাগমতী প্রাদেশিক সরকার। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প সড়ক ও অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেইলি সেতু, ঝুলন্ত সেতু ও অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করতে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। দ্রুত এসব অবকাঠামো নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পাসাং লামু মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ছাহারে, বাহুনবেশি, নাউকুন্ডা ও সারমাথালি হয়ে ধুনচে পর্যন্ত বিকল্প সড়ক চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিনা ভাড়ায় বাস চলাচলের ব্যবস্থা করেছে প্রাদেশিক সরকার। ধুনচে থেকে মহাবীর, চৌগাতে থেকে কাঠমান্ডু এবং বিদুর থেকে কাঠমান্ডুর মধ্যে এসব বাস চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নমন্ত্রী ও প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র ভারত কেসি।
গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই দিনই প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য ৩ কোটি নেপালি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাসুয়া ও নুয়াকোটে ১ কোটি করে এবং ধাদিং ও চিতওয়ানে ৫০ লাখ করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী কিরণ থাপা, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিদুরে বাস্তুচ্যুতদের জন্য চারটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় চারটি স্বাস্থ্য শিবিরও চালু করা হয়েছে।
দুর্যোগে নিহত প্রত্যেকের শেষকৃত্যের জন্য ২৫ হাজার নেপালি রুপি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে পরিবহন, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, ত্রাণসামগ্রী ও আকাশপথে উদ্ধার—এই পাঁচটি খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এদিকে হেটৌডার গুদাম থেকে বিদুরের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৮০টি ত্রিপল, ৫০টি তাঁবু ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ধুনচেতে ৪০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটির দিনেও কর্মস্থলে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
সময়ের আলো/কেএইচ