মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে ট্রল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ২টি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও পোস্ট করেছেন। যার একটিতে অস্ত্র নিয়ে ‘ডোনাল্ড ডাক’ বা রাজহাঁসের বাহিনীকে নবঘোষিত ‘লেক আমেরিকা’র উপকূল পাহারা দিতে দেখা যাচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভিডিও দুটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। প্রথম ভিডিও পোস্ট করার ঘণ্টাখানেক পর ট্রাম্প আরেকটি এআই ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে তাকে নিজের হাতে ‘স্বাগতম লেক ওন্টারিও’ সাইনবোর্ডটি ভেঙে সেখানে ‘স্বাগতম লেক আমেরিকা’ সাইনবোর্ড বসাতে দেখা যায় এবং এর পরই তিনি বিখ্যাত ‘ওয়াইএমসিএ’ গানের তালে নাচ শুরু করেন। এ ভিডিওটি পোস্ট করার সময় তিনি ভার্জিনিয়ার গলফ কোর্সে ছিলেন।
প্রথম ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে বিখ্যাত ‘হাওয়াই ফাইভ-ও’ থিম মিউজিকের তালে একদল কানাডিয়ান রাজহাঁসকে লেক ওন্টারিওর তীরে মার্চ করতে দেখা যায়। তবে, মজার ব্যপার হলো- রাজহাঁসগুলোর মানুষের মতো হাত রয়েছে, তাদের সবার হাতে অ্যাসাল্ট রাইফেল এবং মাথায় রয়েছে ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক ব্লন্ড চুলের স্টাইল।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজহাঁসগুলো শূন্যে গুলি ছুঁড়ছে এবং পেছনের শহরের আকাশজুড়ে বাজি ফুটছে, যা দেখতে অনেকটা টরন্টো শহরের মতো।
এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি একটি মার্কার পেন দিয়ে মানচিত্রের লেক ওন্টারিও নামটি কেটে দিয়েছিলেন।
ভিডিওতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা একটি ছোট পরিবর্তন করতে যাচ্ছি। আমরা একে লেক ওন্টারিওর চেয়ে ভিন্ন কিছু বলব। আমরা একে লেক আমেরিকা বলব।’
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি নথিতে ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে, কিন্তু তিনি কানাডা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোকে এই নাম মানতে বাধ্য করতে পারেন না।
ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ডের জবাবে বৃহস্পতিবার এক্সে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি লিখেছেন ‘লেক ওন্টারিও নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো, যা কানাডা রাষ্ট্র গঠন এবং আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা জানি যে, আমেরিকা বদলে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিদর্শন ও হ্রদের নাম- সবই তারা বদলাচ্ছে। তবে, কানাডিয়ানরা ভালো করেই জানে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না-এই হ্রদের নাম সবসময় লেক ওন্টারিও ছিল, আছে এবং থাকবে।’
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ক্রমাগত দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তারওপর গত সপ্তাহে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
২২ আগস্ট কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রফতানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই শুল্ক আরোপকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ সঙ্গে তুলনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পণ্যের ওপরও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন।
উল্লেখ্য, কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার ওন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। ভিডিও দুটি মূলত সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই তার অভিনব প্রচারণা।
সময়ের আলো/মহু