নেপালের বন্যায় ঝুঁকিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্যোগের পর তাদের মধ্যে

2026-08-30T17:15:39+00:00
2026-08-30T18:03:00+00:00
 
  রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইউএন উইমেন
নেপালের বন্যায় ঝুঁকিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম  আপডেট: ৩০.০৮.২০২৬ ৬:০৩ পিএম
নেপালের কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের ময়নাতদন্ত বিভাগের বাইরে স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। ছবি : দ্য হিমালয়ান টাইমস
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্যোগের পর তাদের মধ্যে সহিংসতা, শোষণ, খাদ্যসংকট এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির প্রথম জেন্ডার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় আনুমানিক ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ জন নারী ও কন্যাশিশু সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপালের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিমালয়ান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত, প্রায় ১ হাজার মানুষ নিখোঁজ এবং প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

নেপালে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি প্যাট্রিসিয়া ফার্নান্দেজ-পাচেকো বলেন, দুর্যোগ আঘাত হানলে নারী ও কন্যাশিশুদের বিদ্যমান ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে এ সময় নির্যাতন, শোষণ, ক্ষুধা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।


সংস্থাটির সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা ও চিতওয়ান জেলায় প্রায় প্রতি তিনজন নারীর একজন নিরক্ষর। ফলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রেও তারা বাড়তি সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, দুর্যোগের কারণে অর্থনৈতিকভাবেও ঝুঁকিতে পড়েছেন বাগমতী প্রদেশের অনেক নারী। প্রদেশটির প্রতি তিনটি পরিবারের একটি নারীপ্রধান। এসব পরিবারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বন্যার কারণে এই আয়ের উৎসও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

দুর্যোগকবলিত নারী ও কন্যাশিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে নেপাল সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, নারী অধিকার সংগঠন ও মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ইউএন উইমেন।

এ ছাড়া নারী নেতৃত্বাধীন ‘কমিউনিটি কিচেন’ উদ্যোগ চালুর জন্যও কাজ করছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে দুর্গত মানুষকে তাৎক্ষণিক খাবার সরবরাহের পাশাপাশি নারীদের নেতৃত্ব, জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও কন্যাশিশুদের সহায়তায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে ইউএন উইমেন। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত এবং সহিংসতা, মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও কন্যাশিশুদের সহায়তায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   নেপাল  বন্যা  ঝুঁকি  নারী  কন্যাশিশু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: