প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে। চলমান পাইলটিং কর্মসূচির ফলাফলে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে কর্মসূচি শুরুর সময় কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে না হলেও ওই শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই দেশজুড়ে কর্মসূচি চালু করা হবে।’
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুরে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি মডেল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘পাইলটিং রেসপন্স খুবই ভালো পাচ্ছি আমরা। সোমবার দিনাজপুর জেলার এই পাইলটিং প্রোগ্রামের ওপর একটা ওয়ার্কশপ আছে। সেখানেও আমরা কিছু চিত্র জানব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে চলতে থাকলে ইনশাল্লাহ আগামী বছর, মানে ২৭-এর শুরুতেই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করব। যদি মাঝখানে কোনো কিছু ব্যাঘাতও ঘটে, মানে আরও কোনো কিছু ফল্টস খুঁজে বের করতে পারি আমরা, তাহলে হয়ত আরেকটু দেরি হতে পারে, বাট ২৭ স্কুল ইয়ারেই শুরু হবে। জাস্ট শুরুতে না হয়ে আর একটু পরের দিকে শুরু হতে পারে। বাট ২০২৭ স্কুল ইয়ারে স্কুল ফিডিং শুরু হচ্ছে ইনশাআল্লাহ।’
দেশে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থী কমছে এই কথাটা বলছেন, শিক্ষার্থী কমে-বাড়ে এটা কোনো মাথাব্যথা না। মাথাব্যথা হলো-প্রত্যেকটা শিশু স্কুলে যায় এবং প্রত্যেকটা শিশু সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করে। শিক্ষা লাভ কোথায় করছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউশন যেখানে শিক্ষা লাভ করা সম্ভব, যেন সঠিক শিক্ষা দিতে সক্ষম হয়। এইটা নজরদারি- এইটা হলো সরকারের দায়িত্ব।’
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইজ নট আ সার্ভিস প্রোভাইডার। সরকারের দায়িত্ব হলো- প্রত্যেকটা নাগরিক সার্ভিস পাচ্ছে কিনা সেটা ইনসিওর করা। যেই জায়গায় অন্য কোনো মোড্যালিটিতে পাচ্ছে না, সেই জায়গায় প্রয়োজনে সরকার নিজে সার্ভিস দেওয়া শুরু করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ওই প্রিন্সিপালের ভিত্তিতে তৈরি, যে জনগণ পাচ্ছিল না, তার জন্য সরকার নিজেই প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করেছে। কিন্তু সেটার যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সেটা প্রয়োজন নাই।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দুটি বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। একটা হলো- প্রত্যেকটা শিশুকে বিদ্যালয়ে যেতে হবে এবং দ্বিতীয় হলো প্রত্যেকটা বিদ্যালয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে।’
সময়ের আলো/মহু