জমি কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর শুধু দলিল হাতে থাকলেই মালিকানার প্রক্রিয়া শেষ হয় না। সরকারি খতিয়ানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভূমির মালিকানা সুনির্দিষ্ট ও আইনি সুরক্ষায় আনতে নামজারি বা মিউটেশন করা জরুরি। সম্প্রতি ভূমি সংক্রান্ত নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই জমির মালিকদের এসব নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানা থাকা প্রয়োজন।
নামজারি কী
জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানে আগের মালিকের নাম পরিবর্তন করে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াই নামজারি বা মিউটেশন। বর্তমানে অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে নামজারির আবেদন করা যায়।
উত্তরাধিকারসূত্রে জমির নতুন নিয়ম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে উল্লেখ করে যৌথ নামজারির আবেদন করতে হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি ভাগ বা বণ্টন না হলে পৃথক খতিয়ান করা হবে না। এ ক্ষেত্রে একই খতিয়ানে সবাইকে অংশীদার হিসেবে নামজারি করা হবে।
তবে ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে নিবন্ধিত বণ্টননামা বা সমঝোতা দলিলের মাধ্যমে জমি ভাগ করে নিলে নিজ নিজ অংশ অনুযায়ী পৃথক নামজারি ও খতিয়ান করা যাবে।
নামজারির আবেদনের সঙ্গে সব ওয়ারিশের সঠিক তথ্য, নিবন্ধিত ওয়ারিশ সনদ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তথ্য বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
নামজারি না করলে কী হতে পারে
জমির নামজারি না করলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। হালনাগাদ খতিয়ান না থাকলে জমি বিক্রি, দান বা হেবা করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিজের নামে রেকর্ড না থাকায় ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া জমির দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে নামজারি না থাকার কারণে মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর দ্রুত নামজারি করে রেকর্ড হালনাগাদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আগে নামজারি করা থাকলে
যাদের নামজারি আগে থেকেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ানে থাকা তথ্য সঠিক, তাদের নতুন করে নামজারি করার প্রয়োজন নেই। তবে পুরোনো খতিয়ান বা রেকর্ড সরকারি অনলাইন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে সংরক্ষিত বা ডিজিটাইজড হয়েছে কি না, তা যাচাই করে রাখা ভালো।
নামজারির জন্য যেসব কাগজ লাগতে পারে
অনলাইনে নামজারির আবেদন করার সময় সাধারণত প্রয়োজন হয়—
রেজিস্ট্রি করা মূল দলিল বা বায়না দলিলের সত্যায়িত কপিপূর্বের খতিয়ানের কপি এবং দাগ নম্বরসহ জমির বিস্তারিত তথ্যআবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রউত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদপূর্ণাঙ্গ আবেদন ফরম এবং সরকারি ফি পরিশোধের রসিদ
কত দিনে নামজারি হয়
ই-নামজারি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে সাধারণত ২৮ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে কাগজপত্রে ভুল বা তথ্যের ঘাটতি থাকলে, কিংবা জমি নিয়ে আপত্তি বা আইনি বিরোধ থাকলে বেশি সময় লাগতে পারে।
জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর দ্রুত নামজারি করে সরকারি রেকর্ড নিজের নামে হালনাগাদ করে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে জমি হস্তান্তর, কর প্রদান কিংবা মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সময়ের আলো/এসএকে