যুক্তরাষ্ট্রের বিশালাকার যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটিয়ে এখন থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরের কাছে পৌঁছাচ্ছে। জাহাজটিতে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে এত বেশি সেনা একসঙ্গে শহরে আসায় যৌন নিপীড়ন ও রোগব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, জাহাজটিতে থাকে সৈন্যরা বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য এই পর্যটন শহরে আসবেন। সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে যেমন স্থানীয় ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে, তেমনই অবৈধ যৌন ব্যবসা ও বিশৃঙ্খলা সামলাতে শহরজুড়ে কড়া পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলায় পাতায়ার হোটেল ও দোকান মালিকেরা এই সেনাদের আগমনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় মেয়রের ধারণা, একেকজন সেনাসদস্য দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারেন, যা শহরের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে চাঙা করবে।
তবে এত বেশি সেনা একসঙ্গে শহরে আসায় যৌন নিপীড়ন ও রোগব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডে আইনত পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ হলেও পাতায়ায় এটি বেশ খোলামেলা। তাই মার্কিন সেনারা শহরে নামার আগেই পুলিশ নাইটলাইফ ও সৈকত এলাকায় টহল বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে আটকও করা হয়েছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলার কারণে জাহাজটিকে সেখানে অবস্থান করতে হয়।
টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর ফলে সেনাদের ওপর মানসিকভাবে বেশ চাপ গেছে। তাই পাতায়ার এই সফরটি সেনাসদস্যদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও