ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। বর্তমান ফিফা প্রধানের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন সাবেক উয়েফা সভাপতি। প্লাতিনির অভিযোগ, ফুটবলের নিয়মকানুন রক্ষার দায়িত্বে থেকেও ইনফান্তিনো নিজেই সেসব নিয়মকে যথাযথ সম্মান করছেন না।
ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ফরাসি টেলিভিশন কানাল প্লাসের এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্লাতিনি। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, ‘তাকে চলে যেতেই হবে।’ তার মতে, শুধু আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক নয়, ফুটবল পরিচালনার ক্ষেত্রেও ইনফান্তিনো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের মধ্যে হাইড্রেশন বিরতি এবং ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হাফটাইম বিরতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে প্লাতিনির কাছে সবচেয়ে গুরুতর বিষয় ছিল লাল কার্ডের একটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা।
তার দাবি, এসব সিদ্ধান্ত ফুটবলের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্লাতিনি বলেন, একজন ফিফা সভাপতির প্রধান দায়িত্বই হলো ফুটবলের নিয়মের প্রতি সম্মান দেখানো। কিন্তু বর্তমান সভাপতি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না বলেই মনে করেন তিনি।
ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত মানসিকতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন প্লাতিনি। উয়েফায় একসঙ্গে কাজ করার সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই জানতাম, সে টাকা ও ক্ষমতা খুব ভালোবাসে।’ ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফুটবল প্রশাসন থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন প্লাতিনি। তখন ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড়েও ছিলেন তিনি। পরের বছর ইনফান্তিনো ফিফার শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন। প্লাতিনির ভাষ্য, ইনফান্তিনো তাকে সরিয়ে দেননি, তবে তার পতনের পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নিয়েছেন। বর্তমানে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলার কথাও উল্লেখ করেছেন প্লাতিনি। তবে এসব তদন্তের ফল কী দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়েও সম্প্রতি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে উয়েফাসহ একাধিক সংস্থার আপত্তির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সেই বিরোধের মধ্যেই প্লাতিনির প্রকাশ্য সমালোচনা ফিফা সভাপতির ওপর চাপ আরও বাড়াল। প্লাতিনি মনে করেন, কেবল ফুটবল প্রশাসনের ভেতরের উদ্যোগে ইনফান্তিনোকে সরানো কঠিন। তার মতে, উয়েফা যদি সত্যিই তার বিদায় চায়, তা হলে আইনি পথেই এগোতে হবে। পাশাপাশি ২০১৫ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের দৌড় থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্লাতিনি।
এভাবে একের পর এক সমালোচনার মুখে পড়া ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল প্রশাসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে