এক পাশে উত্তর কোরিয়া, অন্য পাশে দক্ষিণ কোরিয়া; মাঝে বাংলাদেশের আরেক কঠিন প্রতিপক্ষ মিয়ানমার। এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে লড়াই শুরুর আগেই যেন কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এই চ্যালেঞ্জকে ভয় পাওয়ার বদলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার।
এশিয়ান গেমসের মূল লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রথম পরীক্ষা ১৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে সাবিনা-তহুরারা। তিন দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে নারী ফুটবলের খেলা শুরু হবে তার আগেই। মূল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল রাতে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। সেখানে ৭ ও ১০ সেপ্টেম্বর গুয়াংঝু এফসির বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের উদ্দেশে রওনা হবে দল।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো রাখঢাক রাখেননি বাটলার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ কোচ স্পষ্ট করে বলেন, ‘উত্তরটা হয়তো কিছুটা কঠিন শোনাবে, তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা এখনও পদক জয়ের মতো স্তরে পৌঁছাইনি।’ তবে পদকের সম্ভাবনা না থাকলেও টুর্নামেন্টটিকে কোনোভাবেই অর্থহীন মনে করছেন না বাটলার। বরং তার কাছে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চীনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। বাটলার বলেন, ‘চীনে খেলার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ বিষয়। ভালো মানের দলের বিপক্ষে খেলার এমন সুযোগ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন।’
বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচকে তিনি দেখছেন বাংলাদেশের মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের উচ্চপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ হিসেবে। বড় ব্যবধানে হারলেও এমন ম্যাচ থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। গ্রুপের আরেক দল মিয়ানমারকেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে নারাজ কোচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকায় তাদের বিপক্ষেও কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। এরই মধ্যে এশিয়ান গেমসের জন্য ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। দলে জাতীয় অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা একমাত্র খেলোয়াড় অর্পিতা বিশ্বাস। সবশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার।
এশিয়ান গেমস দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার। দলে ফিরেছেন দুই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন ও নবীরণ খাতুনও। তবে সবশেষ সাফের স্কোয়াডে থাকা সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, উমহেলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ এবার দলে নেই।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে