টেনিস ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে চোখের পানি ফেলেছিলেন রজার ফেদেরার। চার বছর পরও আবেগের সেই অধ্যায় যেন শেষ হয়নি। এবার টেনিসের হল অব ফেমে অভিষিক্ত হওয়ার মঞ্চেও কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুইস কিংবদন্তি।
রড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেমে জায়গা করে নেন ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরার। এই স্বীকৃতিকে নিজের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৪৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
ফেদেরার বলেন, ‘এটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান। তারা এটাকে হল অব ফেম বলছে, কিন্তু খ্যাতি পাওয়ার লক্ষ্য কখনও ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করে জীবন পার করা, যেটা করতে আমি ভালোবাসি এবং এমন কিছু মানুষদের সঙ্গে যাদের আমি ভালোবাসি।’
বক্তব্যে নিজের ক্যারিয়ারের কিছু মজার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন আটবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন। গ্র্যান্ড স্লাম কিংবা বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে কাটানো সপ্তাহের হিসাবের বাইরে তিনি জানান, ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড পরেছেন। এমনকি হাজার জোড়ার বেশি মোজাও ব্যবহার করেছেন বলে রসিকতা করেন তিনি।
১৯৯৮ সালে এটিপি ট্যুরে পা রাখার পর থেকে ২০২২ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফেদেরার। টেনিসে তার যাত্রার শুরু অবশ্য আরও আগে, বাসেলের একটি এটিপি টুর্নামেন্টে ১৩ বছর বয়সে বলবয় হিসেবে।
সেই সময়ের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই প্রত্যেক বলবয়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমার ম্যাচ কিংবা আমাদের সব ম্যাচজুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকত। আমি তোমাদের দেখি, তোমাদের ধন্যবাদ জানাই, আমি তোমাদের একজন ছিলাম।’
ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা জোগানো মানুষদের কথাও স্মরণ করেন ফেদেরার। নিজের আদর্শ স্টেফান এডবার্গ, অন্য টেনিস খেলোয়াড়, পরিবার ও দীর্ঘদিনের সহযাত্রীদের কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে মজা করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে নিজেকে বাঁচাতে আমার টিস্যু, সানগ্লাস ও সবকিছু প্রয়োজন। সত্যিই কী যে একটা অবস্থা!’
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানান ফেদেরার। তার আগে জিতেছেন ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম, যার মধ্যে উইম্বলডনের শিরোপা আটটি। খেলোয়াড় হিসেবে অধ্যায় শেষ হলেও টেনিসের সঙ্গে তার সম্পর্ক যে শেষ হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ফেদেরার বলেন, ‘এটা অসাধারণ এক যাত্রা। আমার জন্য আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেম পেছনে ফিরে তাকানোর দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে, সামনে তাকানোরও। আপনারা বলতে পারেন, আমি এখনও টেনিসকে আমার প্রেমপত্র লিখছি।’
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও টেনিসকে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখতে চান তিনি। তার ভাষায়, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমার সময় শেষ, কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় সবকিছু, আমার পরিবার, আমাদের বন্ধুত্ব, বিগত ৪০ বছর এবং আমরা যে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, এর কেন্দ্রবিন্দুতে টেনিস চিরকাল থাকবে। আমার কাছে এই সবকিছুর জন্য টেনিসই দায়ী।’
সময়ের আলো/টিকে