ইউরোপের দুই শীর্ষ লিগের নতুন মৌসুমের শুরুতেই আলোচনায় দুই ভিন্ন গল্প। জার্মানিতে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে রায়ান চেরকি ও আরলিং হালান্ডের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
বুন্দেসলিগার নতুন মৌসুমে মাঠে নেমেই বায়ার্নের হয়ে ৬০০ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন নয়ার। একই সঙ্গে এটি জার্মান শীর্ষ লিগে তার ২১তম মৌসুম। ২০১১ সালে শালকে ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকে পরিণত হয়েছেন ৪০ বছর বয়সি এই তারকা। বায়ার্নের হয়ে ১৩টি লিগ শিরোপা, সাতটি জার্মান কাপ এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন তিনি।
ক্লাবটির হয়ে ৬০০ ম্যাচ খেলা নয়্যারের দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় মাইলফলক। স্টুটগার্টের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ে বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। ৫-১ গোলে জয় পেয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। এদিকে প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচে দুটি করে গোল করেছেন হালান্ড ও চেরকি। ১৭ মিনিটে হেডে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। বিরতির আগে আর কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চেরকি।
তবে ২ মিনিট পর আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ফেরে ক্রিস্টাল প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। কিন্তু প্যালেসের সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৫৯ মিনিটে আবারও গোল করেন চেরকি। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে ঢুকলে প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম জোড়া গোল পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা।
এরপর ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি। টানা দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে মৌসুমের শুরুতে দারুণ অবস্থানে রয়েছে তারা। একদিকে ৪০ বছর বয়সেও বায়ার্নের হয়ে নতুন মাইলফলক গড়া নয়ার, অন্যদিকে নতুন মৌসুমে জোড়া গোল করে সিটিকে উড়তে সাহায্য করা চেরকি ও হালান্ড। ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন মৌসুমের শুরুটা তাই স্মরণীয় করে রাখলেন এই তিন তারকা।
অপরদিকে লিগ ওয়ানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে চোখ রাঙাচ্ছিল ‘নিশ্চিত’ হার। তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো দল তো নয় তারা। শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়ে, যোগ করা সময়ে দুই গোল করে পরাজয় এড়াল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
দলের লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ কোচ লুইস এনরিকে বললেন, এই তাদের ‘পরিচয়’। টানা দুটি লিগ ম্যাচে জিততে পারেনি পিএসজি। এ নিয়ে অবশ্য মোটেও উদ্বিগ্ন নন দলটিকে টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো কোচ এনরিকে। মনে হতে পারে, দুই ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট বেশি কিছু নয়।
কিন্তু গত বছর রেন ও লিলের বিপক্ষে আমরা যে ফল পেয়েছিলাম, সেটি বিবেচনা করলে এবার ওই দুই ম্যাচ থেকে আমরা আসলে এক পয়েন্ট বেশি পেয়েছি।
সময়ের আলো/এসএকে