বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে তাড়াহুড়ো করে আয়োজন না করে সময় নিয়ে টেকসই কাঠামোয় ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক। তার মতে, শুধু আয়োজনের জন্য নামকাওয়াস্তে একটি আসর করার চেয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ভালোভাবে বিপিএল আয়োজন করাই উত্তম।
বিপিএলের সাম্প্রতিক নানা জটিলতার কারণে এ বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসানের পর বিসিবি জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মকানুনে পরিবর্তন এনে বিপিএলকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিসিবি। সেখানে রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে ইশতিয়াক সাদেক জানান, বিপিএলকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
‘বিপিএলটার সংস্কার প্রয়োজন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক দশকে টুর্নামেন্টটির জন্য স্থায়ী ও টেকসই কোনো মডেল তৈরি হয়নি। তাই এবার নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ এসেছে। তার মতে, কিছুটা বিরতি নিয়ে টুর্নামেন্টটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে ফেরানো গেলে সেটিই বিপিএলের জন্য ভালো হবে।
রংপুরের পক্ষ থেকে বিপিএলের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের একটি স্থায়ী সূচির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ইশতিয়াক সাদেকের ব্যাখ্যা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একসঙ্গে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট সূচি না থাকায় বিপিএল শীর্ষ বিদেশি ক্রিকেটারদের আকৃষ্ট করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে।
আগেভাগে সূচি জানা থাকলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে চুক্তি করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সময় নির্ধারণ এবং সামগ্রিক কাঠামোও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে রংপুর।
তবে বিপিএল না হলে দেশের অনেক ক্রিকেটারের আয়ের ওপর এর প্রভাব পড়বে। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ নিয়মিত আয়ের জন্য বিপিএলের ওপর নির্ভরশীল। তাই টুর্নামেন্ট না হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
ইশতিয়াক সাদেক অবশ্য মনে করেন, ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা পরিশোধ করতে না পারার চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে সুষ্ঠু কাঠামো তৈরি করা ভালো। রংপুর রাইডার্সেরও কয়েকজন ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক এখনো বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, স্পন্সরদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তার বক্তব্যের সারকথা, বিপিএলকে শুধু ক্যালেন্ডারে রাখার জন্য আয়োজন নয়, বরং আর্থিক স্বচ্ছতা, ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়বদ্ধতা, নির্দিষ্ট সূচি এবং ক্রিকেটারদের পাওনা নিশ্চিত করেই টুর্নামেন্টটি মাঠে ফেরানো দরকার। বিসিবিও এর আগে জানিয়েছে, তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নতুন কাঠামোয় বিপিএল ফেরানোই তাদের লক্ষ্য।
সময়ের আলো/টিকে