ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন হোসে মরিনিও। পর্তুগিজ কোচের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি শুধু দলীয় সাফল্য কিংবা শিরোপা জয়ের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত নয়। বরং এমন খেলোয়াড়ের হাতে ওঠা উচিত, যাঁর অসাধারণ প্রতিভা ও খেলা দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যায়। একই সঙ্গে ব্যালন ডি’অরের নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
মরিনিওর মতে, একজন খেলোয়াড়ের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তার জেতা ট্রফি দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাঁদের খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরও ফুটবলপ্রেমীরা মনে করেন, তাঁদের অভাব পূরণ হওয়ার নয়।
নিজের বক্তব্য বোঝাতে দিয়েগো ম্যারাডোনা, রোনালদো নাজারিও, লিওনেল মেসি ও জিনেদিন জিদানের উদাহরণ টেনেছেন মরিনিও।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ব্যালন ডি’অর তাদেরই পাওয়া উচিত, যারা অবসর নেওয়ার পরও আমরা মিস করি, তাদের আমরা চিরকাল মিস করব। আমি ম্যারাডোনাকে মিস করি, নাজারিওকে মিস করি, মেসিকে মিস করি, জিজুকেও মিস করি।’
শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতেছে বলে কাউকে ব্যালন ডি’অর দেওয়ার পক্ষপাতী নন মরিনিও। তার যুক্তি, যদি দলীয় সাফল্যই ব্যক্তিগত পুরস্কারের প্রধান মানদণ্ড হয়, তাহলে সেই পুরস্কারের কৃতিত্ব আসলে কোচদেরও প্রাপ্য।
মরিনিও বলেন, ‘শুধু কেউ চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতেছে বলেই তাকে ব্যালন ডি’অর দিতে পারেন না। যদি চ্যাম্পিয়নস লিগকে পুরস্কৃত করতে চান, তাহলে ব্যালন ডি’অর দিন লুইস এনরিকেকে। আর স্পেনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই দে লা ফুয়েন্তে এটা পাওয়ার যোগ্য।’
অর্থাৎ তার চোখে দলের শিরোপা জয়ের সঙ্গে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে আলাদা করে দেখা উচিত। দলীয় সাফল্যের পেছনে কোচের অবদান থাকলেও ব্যালন ডি’অর মূলত একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত প্রতিভার স্বীকৃতি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বসেরা খেলোয়াড় যে শুধু কোনো নির্দিষ্ট ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সেটিও মানতে নারাজ মরিনিও। তার মতে, একাধিক খেলোয়াড় একই সময়ে বিশ্বসেরার পর্যায়ে থাকতে পারেন এবং তাঁদের চেনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দলের পরিচয়ের প্রয়োজন নেই।
মরিনিও বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে পিএসজি কিংবা স্পেনের হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দুজন, তিনজন কিংবা চারজন আছে, আমরা জানি তারা কারা।’
তবে তার সবচেয়ে কড়া মন্তব্য এসেছে ব্যালন ডি’অরের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে। পুরস্কারের সঙ্গে রাজনীতির প্রভাব জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মরিনিওর ভাষায়, ‘ব্যালন ডি’অরে রাজনীতি আছে। আর যখন রাজনীতি ঢুকে পড়ে, তখন বিষয়টি আমার আর তেমন ভালো লাগে না।’
মরিনিওর বক্তব্যে তাই ব্যালন ডি’অর নিয়ে পুরোনো বিতর্কই আবার সামনে এসেছে। একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য, শিরোপা এবং ভোটের রাজনীতি—শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেই প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এনেছেন পর্তুগিজ কোচ।
সময়ের আলো/টিকে