ইন্টার মায়ামির কোচিংয়ে এসেছে পরিবর্তন। গুইলেরমো হোয়োসকে সরিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজকে। তবে নতুন কোচের নিয়োগের পেছনে লিওনেল মেসির প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। সেই গুঞ্জন অবশ্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন হোয়োস নিজেই।
বৃহস্পতিবার গঞ্জালেজকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে মায়ামি। ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি। তার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হোয়োস।
এরপর শুক্রবার সকালে হোয়োসকে প্রশ্ন করা হয়, গঞ্জালেজকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে মেসির কোনো ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, ‘না না। গঞ্জালেজের নিয়োগ মেসির চিন্তায় ছিল না। এটা ক্লাবের সিদ্ধান্ত ছিল।’
তবে মেসির প্রভাব একেবারেই নেই, এমনটাও মনে করেন না হোয়োস। বরং দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে তাঁর মতামতের গুরুত্ব থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
হোয়োস বলেন, ‘তার মতো ব্যক্তিত্ব ও সেরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যেমন প্রত্যাশা করেন, তেমন প্রভাব মেসির আছে বলে মনে করি। আমার ধারণা অন্য জায়গাতেও এমন প্রভাব থাকে।’
নিজের বক্তব্য বোঝাতে বোকা জুনিয়র্সের উদাহরণও দেন হোয়োস। কোনো ক্লাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচ নিয়োগ কিংবা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন তিনি।
হোয়োসের ভাষায়, ‘এই যেমন বোকা জুনিয়র্সে, আপনি পারেদেসের মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে হয়তো আলোচনা করবেন। কারণ বোকায় সে সত্যিকারের একজন মর্যাদাপূর্ণ খেলোয়াড়, একজন কোচের থেকে যাওয়া কিংবা নতুন কারও আসার ব্যাপারে তার কথার ভার আছে।’
মেসি ও গঞ্জালেজ অবশ্য একেবারে অপরিচিত নন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে একসময় সতীর্থ ছিলেন দুজন। ২০০৫ সালে পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে একই দলের হয়ে খেলেছেন তাঁরা।
এবার অবশ্য সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেছে। একজন দলের সবচেয়ে বড় তারকা, অন্যজন কোচ। মায়ামির টানা পাঁচ ম্যাচের জয়খরার পর গঞ্জালেজের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দলের দায়িত্ব।
ফলে মেসির সঙ্গে তাঁর পুরোনো পরিচয় এবং মায়ামিতে তাঁর প্রভাবের কারণে নতুন কোচ নিয়োগের সঙ্গে আর্জেন্টাইন তারকার নাম জড়িয়ে গুঞ্জন তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে হোয়োসের বক্তব্য অনুযায়ী, গঞ্জালেজকে নিয়োগের সিদ্ধান্তটি মায়ামি কর্তৃপক্ষেরই।
সময়ের আলো/টিকে