উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, বালুমহাল ইজারা স্থগিত এবং স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানের পরও নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় চলছে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে হুমকিতে পড়েছে কৃষিজমি, বাজার, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট। রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় মহাদেও ও সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে অবাধে বালু উত্তোলন ও কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রেজার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী থেকে বালু তুলে তীরে মজুত করা হচ্ছে। পরে অটোরিকশা, ভ্যান ও ট্রাকে করে সেই বালু পৌঁছানো হচ্ছে বিভিন্ন ডিপো ও গন্তব্যে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ট্রিপ বালু পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরিসহ স্থানীয় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী মানুষ বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে কৃষিজমি, বাজার ও বসতবাড়ি।
কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এই অপকর্মের মূল হোতা। এমনকি বিষরপাশা পুলিশ ফাঁড়ির চোখের সামনে দিয়ে নৌকা চলাচল করলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, বালুবাহী যান পেলেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থানের অভাবে দিনমজুর ও বেশ কিছু পরিবার টিকে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে নদী থেকে বালু সংগ্রহ করে কম দামে বিক্রি করছে।
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রেখে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলমাকান্দায় মহাদেও নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩৯টি বালুবাহী নৌকা জব্দ, নদী থেকে সংগৃহীত বালু বিনষ্ট, একজনকে কারাদণ্ড এবং প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এমন সাময়িক অভিযানের পর চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও বসবাসকারীরা নদী ও জনপদ রক্ষায় কঠোর ও ধারাবাহিক আইনি ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জেলার বালুমহাল ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তাই নদী থেকে যেকোনো উপায়ে বালু বা মাটি তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/এনএন