জ্বালানি যাচ্ছে তলানিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি

2026-09-02T00:45:51+00:00
2026-09-02T00:55:48+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
জ্বালানি যাচ্ছে তলানিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ এএম  আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ১২:৫৫ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন— সব মিলিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, পরিবহন, সার উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সংকট সামাল দিতে বেশি দামে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হয়েছে। বেড়েছে ভর্তুকির চাপ, বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে সরবরাহ সংকটের সঙ্গে মানুষের বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষও বেড়েছে, যা সরকারকে ফেলেছে নতুন ঝুঁকিতে।

এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এলএনজি পরিবহন এখনও প্রায় বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের পক্ষে এলএনজি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Advertisement
পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতার এনার্জি জানিয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশকে যে এলএনজি সরবরাহ করার কথা তাদের, তাতে সেপ্টেম্বরের পরও বিঘ্ন ঘটবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও খোলাবাজার— এ দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক বা দুটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।

ইউরো নিউজের সংবাদে বলা হয়েছে, কাতার এনার্জির সর্বশেষ যেসব চালান বাতিল হয়েছে, সেগুলোর সময়সীমা নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা এরই মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ ভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার শুরু করছে। আবার কেউ গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এডিসনের সঙ্গে কাতার এনার্জির চুক্তির আওতায় এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯। এসব চালানে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কথা ছিল।

এডিসন জানিয়েছে, এর মধ্যে বাতিল হওয়া ২১টি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা তারা করেছে। এসব চালানে প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস ছিল। ফলে গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কাতার এনার্জি মার্চে প্রথম অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে প্রতি মাসে মেয়াদ বাড়ানো হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নতুন এলএনজি রফতানি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগের মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরই বৈশ্বিক ধাক্কা 

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় চাপ তৈরি করে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়েছে।

মার্চে কাতারের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর কেনা দুটি স্পট এলএনজি কার্গের দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ২৮ ডলার ও ২৩ দশমিক ৮ ডলার। বছরের শুরুতে বাংলাদেশ প্রায় ১০ ডলার দরে স্পট এলএনজি কিনেছিল। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় দুই থেকে প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করতে হয়েছে। একপর্যায়ে সরকারি সার কারখানাগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মাঝেমধ্যে এক বা দুটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ওপর নির্ভরতা বাড়ে।

বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির বড় অংশ কাতারনির্ভর হওয়ায় এই সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কাতার এনার্জি ২০২৬ সালের বাংলাদেশের নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনে। যুদ্ধ শুরুর আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ১৯টি কার্গো পেয়েছিল। পরে ঘাটতি পূরণে ৩৫টি স্পট মার্কেট কার্গো সংগ্রহ করতে হয়।

জ্বালানি সংকটে উপৎপাদন নেই বিদ্যুৎকেন্দ্র 

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে সেই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমাতে হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর ওপর নির্ভরতা বাড়লেও এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় বেশি।

জ্বালানি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দামেও পড়েছে। জুনে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। একই সময়ে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার একদিকে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ ভোক্তার ওপরও চাপছে।

টার্মিনালে ত্রুটিতে গ্যাসসংকট তীব্র

জুলাইয়ের শেষ দিকে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরেকটি বড় ধাক্কা আসে। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক কেবল-সংক্রান্ত সমস্যার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির রান্নায় এর প্রভাব পড়ে। কোনো কোনো শিল্প-কারখানায় উৎপাদন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন এবং অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জনভোগান্তি বাড়ে। 

জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া সংকট আগস্টেও পুরোপুরি কাটেনি। ১৩ ও ১৪ আগস্ট সামিটের এলএনজি টার্মিনালেও সমস্যা দেখা দেয়। একই সময়ে এক্সিলারেট টার্মিনালে নতুন কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে ১৪ আগস্ট একপর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে গ্যাসের ঘাটতি সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে 

জ্বালানি খাতের সংকট এখন কেবল বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সমস্যা নয়; এটি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্যও বড় চাপ। সিপিডির পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৪টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ব্যয় ৬০ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা পর্যন্ত যাওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছিল। অন্যদিকে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই পেট্রোবাংলা প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল। জ্বালানি আমদানির এই ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে। আবার জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর সেই ব্যয় সামাল দিতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে অথবা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও ভোক্তার ওপর।

সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ 

তবে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম শুধু সংকট ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরিতেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ মে বঙ্গোপসাগরে ২৬টি তেল-গ্যাস ব্লকের জন্য ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক রয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিডিং প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। 

পাশাপাশি অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আবিষ্কৃত ৩০টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনে রয়েছে। এসব ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে এসব টার্মিনাল নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রাধিকার, বড় লক্ষ্য উৎপাদনে 

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সরকারি জমির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই খাতে অগ্রগতি এখনও ধীর। নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও প্রকল্প অর্থায়নে বিলম্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাধাগ্রস্ত করছে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা হলেন অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতে আমরা সংকটে আছি— এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বর্তমানে প্রতিদিন লোডশেডিং, গ্যাস সংকটের মধ্যে বসবাস করছি। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন করা। মুনাফা লুণ্ঠন থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে বিকেন্দ্রীকরণ করা। আমরা এখন এলএনজি আমদানির পেছনে দৌড়াচ্ছি। অথচ নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এলএনজির জন্য যে পরিমাণ অর্থ জোগান দিতে হবে এর চেয়ে নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। মোটকথা জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। পরনির্ভশীলতা জ্বালানি খাতকে সংকট দূর করতে পারবে না। 


একজন মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকট দূর করতে পারবেন না। এর জন্য প্রয়োজন বিকেন্দ্রীকরণ বন্দোবস্ত। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে আর শুধু ‘চ্যালেঞ্জ’ বলার সুযোগ নেই, এটি বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা শুধু সরকারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার, শিল্প খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, ২০১৫ সালে দেশের প্রাথমিক জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ১০ শতাংশের কম থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে। 

দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হচ্ছে। এ নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি। জ্বালানি খাতে সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করতে আন্তর্জাতিক মানের একটি কেন্দ্রীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   জ্বালানি  তলানি  সরকার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: