ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ক্লাস, শঙ্কায় ৪৮৭ শিক্ষার্থী

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদের পলেস্তারা। খসে পড়ছে বিমের ইট-সুরকি। ভবনের পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে

2026-09-02T19:48:48+00:00
2026-09-02T21:34:12+00:00
 
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ক্লাস, শঙ্কায় ৪৮৭ শিক্ষার্থী
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম  আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ৯:৩৪ পিএম
উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা । ছবি : সময়ের আলো
যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদের পলেস্তারা। খসে পড়ছে বিমের ইট-সুরকি। ভবনের পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে রড। এমন প্রাণঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে বসছে ৪৮৭ কোমলমতি শিক্ষার্থী। কোনো বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

ভোলার মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা এয়াকুব আলী হান্নান বলেন, মাদরাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বর্ষাকালে প্রতিদিনই ছাদ দিয়ে পানি চুঁয়ে পড়ে। মাদরাসায় একটি নতুন ভবন প্রয়োজন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে আছে। বারান্দা ও ভবনের চারপাশের অবস্থাও নাজুক। বৃষ্টির পানি চুঁয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে।
মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিসা আক্তার জিনুক বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করি। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি না। এর প্রভাব পরীক্ষায়ও পড়ে। ছাদ ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বৃষ্টির পানি চুঁয়ে পড়ে আমাদের বই-খাতা ভিজে যায়।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার রিংকু বলেন, ‘ক্লাস করার সময় বারবার মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। মাদরাসায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবন এবং একটি টিনশেড ভবন রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। ভবনটির বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা মাদরাসায় নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

মনপুরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো বাজেট নেই। আপনারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। জেলা প্রশাসক স্যার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   ঝুঁকিপূর্ণ ভবন  আতঙ্ক  শিক্ষার্থী  মনপুরা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: