কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গত এক মাসে অন্তত ১৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৭টি গরু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি যাওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা। তবে এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মাত্র তিনজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরি বেড়ে গেলেও তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এতে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বর্ষাগাতী গ্রামের শরিফুল ইসলামের তিনটি, হিজলিয়া গ্রামের প্রবাসী মুস্তাকিমের দুটি এবং চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের শৈলজানী গ্রামের মোহাম্মদ আলী রফিকের তিনটি গরু চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগের রাতে পৌর সদরের চরলক্ষিয়া গ্রামের সোহাগ লাটের একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। আরও একটি গরু কাদায় আটকে পড়লে সেটি ফেলে রেখে যায় তারা। একই রাতে মধ্য পাকুন্দিয়ায় উপজেলা ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেনের বাবা চাঁন মিয়ার দুটি এবং তাঁর চাচা লাল মিয়ার দুটি গরু গোয়ালঘর থেকে চুরি হয়।
গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় পৌর সদরের সৈয়দগাঁও এলাকায় আদু পাগলা মাজারের কাছে কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের আকবর (৬০)কে অজ্ঞান করে তাঁর অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৯ আগস্ট তারাকান্দি উত্তরপাড়ায় প্রবাসী কাজলের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল চুরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৮ আগস্ট চণ্ডীপাশা গ্রামের হারেছ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়।
২৩ আগস্ট রাতে পৌর সদরের আনোয়ারখালী গ্রামের আজাহারুল ইসলাম কাঞ্চনের বসতঘর থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এ সময় গোয়ালঘরের তালা ভাঙার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে চোরেরা পালিয়ে যায়।
এর পরদিন ২৪ আগস্ট একই গ্রামের প্রবাসী ফখরুল আলমের বাড়ি থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ফখরুল।
১৭ আগস্ট রাতে পৌর সদরের চর পাকুন্দিয়া গ্রামের উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজারুল হক উজ্জলের বাড়িসহ জুয়েল মিয়া, নাসির উদ্দিন ও সেলিম মিয়ার গোয়ালঘর থেকে মোট আটটি গরু চুরি হয়। সেলিম মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট দুজনকে আটক করে পুলিশ।
১৬ আগস্ট নারান্দি নরপাড়া এলাকার প্রবাসী আল আমিনের ঘরের গ্রিল কেটে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়।
৮ আগস্ট উপজেলার বাহাদিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজের সময় পৌর সদরের হাজী হোসেন আলীর ছেলে মিনহাজ মিয়ার মোটরসাইকেল চুরি হয়। একই সময়ে পাটুয়াভাঙ্গা এলাকার খাদিজার একটি গরু চুরি হলে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ আগস্ট গরুসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে গরুটি মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়।
৬ আগস্ট এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা পালপাড়ার মোতালিবের ছেলে জামালের তিনটি গরু এবং ৫ আগস্ট পৌর সদরের আনোয়ারখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মোটরসাইকেল চুরি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত সন্ধ্যায় গোয়ালঘরে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরেরা বাড়িতে ঢুকে গরু নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত টহল না থাকা এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তৎপরতার কারণে চুরি বেড়েছে বলে ধারণা করছেন গ্রামবাসী। তবে মাদক ব্যবসা ও চুরির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আইনগত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া গত এক মাসে বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
থানায় অভিযোগ না করার বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, অতীতে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় এবার তাঁরা অভিযোগ করতে আগ্রহী হননি।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, আগস্ট মাসে করা তিনটি চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ১০ আগস্ট একটি গরুসহ একজনকে এবং ১৯ আগস্ট আরেকটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে