বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি বা যান্ত্রিক ত্রুটির দায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা-বাবাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গালাগালি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যে ছেলেটিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে তা সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
বিদ্যুৎ বিলের সমস্যা নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিলসংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলে অসঙ্গতি দেখা দিলে সেটির সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ না করে প্রধানমন্ত্রীর মা-বাবাকে গালাগালি করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, ‘আর ওই ছেলেটিকে পুলিশ হেফাজতে না নিলে কি জনতার বিক্ষুদ্ধতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল না? বাংলাদেশ তো আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে যায়নি। আর আপনারাও পশ্চিমা মানুষ হয়ে যাননি। যেখানে সামাজিক সুস্থতার জন্য এসব সাইবার অপরাধ বন্ধের পক্ষে কথা বলা দরকার, সেখানে এগুলোতে কাউকে কাউকে উৎসাহ প্রদান করতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাহলে এমন অপরাধ বন্ধে করণীয় কী, সেটি তো বলতে পারছেন না।’
পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন তিনি। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমান সরকারকে চাপে ফেলতে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি এবং ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের কিছু সংকট তৈরি হতো না।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসের সময়ে নির্বাচিত সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার বিভিন্ন পথ তৈরি করে গেছে, যাতে মানুষের মধ্যে আগের সরকারগুলোর সময় পরিস্থিতি ভালো ছিল- এমন ধারণা তৈরি হয়।
সময়ের আলো/মহু