রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাবেক বা চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার এবং লুট হওয়া ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার ১২/এ সড়কে ডিঙ্গী রেস্টুরেন্টের সামনে পাকা সড়কে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আবেদীন ওরফে জুই (৪১) এবং মো. মজিবুর রহমান (৬০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তানভীরের শরীর তল্লাশি করে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
পরে মজিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে (৬০) গ্রেফতার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০) এবং সজল চৌধুরীকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে তানভীর আবেদীন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য। মজিবুর রহমান, জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির এবং সোলায়মান মৃধা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদকে ডলার ছিনতাই চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় এবং অন্যটি অস্ত্র আইনের ১৯-এ ধারায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের আরও পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ