আগের দুই সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি টেনে তোলা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে যে চাপ তৈরি হয়েছে তাতে ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চড়া, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নানা সংকট— এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির এখন ‘দম বন্ধ’ হওয়ার অবস্থা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানির ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ মিলছে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন গ্যাসের ঘাটতি থাকছে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শিল্পে গ্যাস চাপ ৪০ শতাংশ কম।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই রকম। গ্রীষ্মে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৭,০০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ১৪,৫০০। লোডশেডিং দিতে হচ্ছে ২০০-৩৫০ মেগাওয়াট। ডিজেলের ক্ষেত্রে দেশে চাহিদার শতভাগই আমদানি করতে হয়। এলএনজি আমদানি করতে হয় স্পট মার্কেট থেকে ২০২১-এর চেয়ে ৩ গুণ বেশি দামে।
সিপিডির হিসাব বলছে, জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
জ্বালানির চাপ অর্থনীতির প্রতিটি খাতেই খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বা সংকট বাড়লে সবচেয়ে আগে যে ৫টি খাত আক্রান্ত হয় তার মধ্যে আছে— শিল্প ও উৎপাদন বেড়ে যাওয়া। এই সংকটের কারণে দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে খরচ বেড়েছে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ।
একটি মাঝারি মানের কারখানার মাসিক গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগে ছিল ৮ লাখ, এখন ১২ লাখ। জেনারেটর চালাতে ডিজেল লাগে। ফলে প্রতি পিস পোশাকের উৎপাদন খরচ ৮ থেকে ১০ সেন্ট বেড়েছে। এর প্রভাবে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের বাজারকে ব্যয়বহুল উল্লেখ করে ভিয়েতনামের বাজারে চলে যাচ্ছে।
দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত সিমেন্ট ও স্টিল। এ শিল্পের উৎপাদনের জন্য চুল্লি চালাতে গ্যাস লাগে। গ্যাসের দাম বাড়ায় প্রতি টন সিমেন্টের দাম ২০০ টাকা বেড়েছে। স্টিলের দাম বেড়েছে টনে ৫০০ টাকা। এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রকটভাবে। তাঁত শিল্প, প্লাস্টিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ৩০ শতাংশ এখন লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ থাকছে। বাকিগুলো জেনারেটরে চালিয়ে কোনোরকমে উৎপাদন টিকিয়ে রেখেছে।
দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষি খাতেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে। সেচ ও সারে বেশ ভালোভাবেই ধাক্কা লেগেছে। বোরো ধানের ৭০ শতাংশ সেচ হয় ডিজেল পাম্পে। ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা হওয়ায় বিঘাপ্রতি সেচ খরচ ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০০ টাকা হয়েছে। ইউরিয়া সার উৎপাদনের মূল জ্বালানি উপাদান গ্যাস। গ্যাসের দাম বাড়ায় সারের ভর্তুকি বেড়ে সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। এর প্রভাবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় চাল ও সবজিসহ অনেক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বেশ নাজুক অবস্থায় পড়েছে দেশের পরিবহন খাত ও যাতায়াতব্যবস্থা। ডিজেলকে বলা হয় পরিবহনের রক্ত। এই ডিজেলে ১ টাকা দাম বাড়লে ট্রাক ভাড়া বাড়ে ২ শতাংশ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রাক ভাড়া গত ২ বছরে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বাজারে আসা প্রতিটি সবজি, চাল, মুরগির দাম যেমন বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা তেমনই আমদানি-রফতানির জন্য পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে অনেকখানি।
জ্বালানি সংকটের কারণে একজন মধ্যবিত্তের মাসিক যাতায়াত খরচ ১৫০০ থেকে বেড়ে ২২০০ টাকা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গৃহস্থালির রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে চরমভাবে। তা ছাড়া ভূতুড়ে বিলের চাপেও পিষ্ট হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিদ্যুৎ বিল গড়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাবে ১ কোটি ২০ লাখ পরিবার এখন মাসে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা বেশি খরচ করছে। ফলে শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সংসারের অন্যান্য বাজেট কাটছাঁট করতে তারা বাধ্য হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারের বাজেটেও টান পড়বে। ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে। বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৭ শতাংশ। এই টাকা দিয়ে ১০টি নতুন হাসপাতাল বা ৫০০ স্কুল করা যেত। কিন্তু তা জ্বালানির পেটে চলে যাচ্ছে।
ডলার সংকট এখনও সমস্যা তৈরি করছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। এটাও আরেক বড় চাপ দেশের অর্থনীতির জন্য। ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগছে। ফলে শিল্পে কাঁচামাল ও জ্বালানি আটকে যাচ্ছে।
সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী : অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশে চলমান জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতিতে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো অসম্ভব না।
এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ৫টি সমাধানের কথা বলছেন। এর মধ্যে আছে— চাহিদা কমানো ও সাশ্রয়ী হওয়া। এ ক্ষেত্রে শিল্প-কারখানায় এনার্জি অডিট বাধ্যতামূলক করা দরকার। বাসা-বাড়িতে এলইডি বাল^, ইনভার্টার এসি চালু করা দরকার। সরকারি অফিসে এসি ২৫ ডিগ্রিতে চালানো উচিত। এতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।
দ্বিতীয়ত জ্বালানি ভর্তুকি যৌক্তিক করা দরকার। ধনী ও শিল্পকে বাজার দরে জ্বালানি দেওয়া এবং গরিবকে টিসিবি কার্ড বা সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া দরকার। এতে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
তৃতীয়ত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া দরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর ও বায়ু থেকে আনার উদ্যোগ এখন থেকেই নিতে হবে। তা ছাড়া ছাদে সোলার প্যানেলকে করমুক্ত করা দরকার। এতে এসব সরঞ্জামের আমদানিনির্ভরতা কমবে। চতুর্থত স্থানীয় উৎসের খোঁজ করা। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাস ব্লক অনুসন্ধান করা দরকার। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা দরকার। তা ছাড়া বায়োগ্যাস ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।
পঞ্চমত এলএনজি আমদানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা দরকার। স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি না কিনে কাতার, ওমান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ বছরের জন্য এলএনজি আমদানি চুক্তি করা দরকার।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, এসব বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জ্বালানির চাপ এখন আর শুধু অর্থনীতির সমস্যা না। এটি এখন জীবন-জীবিকার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এখনই সাশ্রয়, উৎপাদন ও সংস্কার একসঙ্গে না করা হয়, তা হলে আগামী ১ বছরে অন্যান্য সংকটের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে বড় দুটি সংকট আরও ঘনীভূত হবে। বিশেষ করে দেশে মূল্যস্ফীতি ১২-১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব আরও বেড়ে যাবে। সরকার যদি এখন থেকেই সঠিক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু করে, তা হলে এই সংকটই হতে পারে বাংলাদেশকে জ্বালানি-দক্ষ অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুযোগ।
অর্থনীতির চার স্তম্ভেই ফাটল : বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এবং দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল নীতির কারণে আগে থেকেই অর্থনীতির মূল চার স্তম্ভে ফাটল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চাপ দেশের সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে বেশি। বাজারের উচ্চ পণ্যমূল্য মানুষের পকেট ফাঁকা করছে।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনেও জ্বালানি সংকট বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে।
একদিকে পণ্যমূল্য বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আয় কমছে। একজন নিম্ন আয়ের মানুষের বাস্তব আয় গত ২ বছরে ১৫ শতাংশ কমেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কাটছাঁট করছে শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য পারিবারিক ব্যয়ে।
অর্থনীতির আরেক স্তম্ভ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্থবিরতা। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ২৩ শতাংশ। ১০ বছর আগেও ছিল ২৮ শতাংশ। বিনিয়োগ কম হওয়ার পেছনেও বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিশ্চয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তা ছাড়া নীতির অনিশ্চয়তা ও ডলার সংকটের কারণেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, বাংলাদেশে বছরে ২৪-২৫ লাখ নতুন কর্মী শ্রমবাজারে আসে, কিন্তু নতুন চাকরি হয় মাত্র ১০ লাখ। বিনিয়োগ না বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে বেকারত্ব বেড়েই চলেছে।
যা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা : দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই দেশের অর্থনীতি নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে আমরা চেষ্টা করেছি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর।
কিন্তু নানা সংকটের কারণে সেটি করা যায়নি। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি টেনে তোলার দায় পড়েছে বর্তমান সরকারের ওপর। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে অর্থনীতিকে ভালো অবস্থার দিকে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় সরকারের উচিত সবার আগে জ্বালানি সংকট দূর করা। আর এর জন্য দরকার দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা জ্বালানি-নিবিড় প্রবৃদ্ধির মডেলে আটকে গেছি। এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে। আমরা প্রবৃদ্ধির সংখ্যা দেখছি, কিন্তু গুণগত পরিবর্তন নেই। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা বাড়েনি। আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্তে বলেছে, ভর্তুকি কমাও, করের আওতা বাড়াও, ব্যাংক সংস্কার করো। অথচ সেদিকে তেমন কোনো নজর নেই। অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নতি করতে হলে যেমন দ্রুত জ্বালানি সংকট দূর করা দরকার, তেমনই অর্থনীতির সূচকগুলো যাতে চাঙ্গা করা যায়— তার জন্যও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
অন্যদিকে শিল্প মালিকরা বলছেন, চলমান সংকটে শিল্প-কারখানা টিকিয়ে রেখে ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, গত টানা চার-পাঁচ বছর আমরা নানারকম সংকট মোকাবিলা করে আসছি। সংকট সংকটে আমরা রীতিমতো জেরবার হয়ে গেছি। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা যারা ব্যবসায়ী তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছি। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অনেক শিল্প-কারখানা সিক হয়ে যাচ্ছে। জানি না এভাবে ব্যবসায়ীরা কতদিন টিকে থাকতে পারবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে