গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। থিয়েটার, টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে এখনও তার উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করে। শুধু অভিনেতাই নন, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করছেন দীর্ঘদিন।
বরেণ্য এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। ১৯৪৪ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন তিনি। জীবনের ৮১ বসন্ত পেরিয়ে এবারে তিনি ৮২ বছরে পা রাখলেন। আবুল হায়াতের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। বাবার চাকরির সুবাদে বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামে। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে চাকরিজীবন শুরু করলেও এক বছর পর ১৯৬৯ সালে অভিনয়ে নাম লেখান তিনি।
চলচ্চিত্র, মঞ্চনাটক এবং প্রায় এক হাজারেরও বেশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত। তবে শুরুটা হয়েছিল ছোটবেলায়। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় আবুল হায়াত মঞ্চে প্রথম ‘টিপু সুলতান’ নাটকে অভিনয় করেন।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে তার প্রথম নাটক আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’। টিভিতে তার প্রথম নাটক ছিল জিয়া হায়দারের প্রযোজনায় ‘ইডিপাস’।
ইডিপাস নামের নাটক দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় অভিষেক হয় আবুল হায়াতের। এরপর থেকে নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন এ অভিনেতা। অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা।
প্রসঙ্গত, অভিনয় ও পরিচালনার বাইরে লেখালেখিতেও বেশ সুনাম রয়েছে আবুল হায়াতের। তার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘আপ্লুত মরু’ প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালের বই মেলায়। এরপর নির্ঝর সন্নিকট, এসো নীপ বনে, অচেনা তারা, জীবন খাতার ফুট নোট ও জিম্মি বইগুলো লিখেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে আবুল হায়াতের দুই মেয়ে বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত। দুজনেই শোবিজের মানুষ। বিপাশার স্বামী তৌকীর আহমেদও একজন নন্দিত অভিনেতা-নির্মাতা। এ ছাড়া নাতাশার স্বামী শাহেদ শরীফ খানও জনপ্রিয় অভিনেতা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে