বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার পথচলা ছিল খুব অল্প সময়ের। অথচ সেই অল্প সময়েই তিনি এমন এক জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন, যা কয়েক দশক পরও মুছে যায়নি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, তিনি যেন ততই নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছেন। মৃত্যু তাকে থামিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথ থামাতে পারেনি। আজ সেই অমর নায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ক্ষণিকের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে এলেও রাতারাতি হয়ে ওঠেন বাংলার পর্দার স্টাইল আইকন। সে সময়ের তার আলোকচ্ছটা আজও ম্লান হয়নি; বরং সময়ের সঙ্গে যেন তার জনপ্রিয়তা গভীর হচ্ছে।
নব্বই দশকের বাংলা সিনেমার পর্দায় সালমান শাহ যখন এলেন, তখন দর্শকের সামনে নায়ক মানেই ছিল একটি নির্দিষ্ট ধরনের চেহারা, পোশাক ও অভিনয়ভঙ্গি। সালমান সেই চেনা ছকের মধ্যে থেকেও নিজেকে আলাদা করে তুলেছিলেন। তার পোশাকে ছিল আধুনিকতা, চুলের স্টাইলে ছিল নিজস্বতা, অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা। আর সবচেয়ে বড় কথা— তিনি পর্দায় প্রেমকে অন্যরকমভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।
ক্ষণজন্মা এই নায়কের জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায়। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তার নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। অভিনয়ে সালমানের আসা নানার কারণেই। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সালমান শাহর অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন।
প্রথম সিনেমাতেই সালমান শাহ দর্শকের হৃদয়ে ঝড় তোলেন। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে নায়িকা মৌসুমীরও সালমান-মৌসুমী জুটি অল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে এ জুটি আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
এরপর শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সালমান শাহ। এ জুটিও অসামান্য জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় একডজন সিনেমায় এ জুটি অভিনয় করে। সালমান শাহ অভিনীত অধিক সিনেমার নায়িকা শাবনূর। এই নায়কের সঙ্গে জুটি হয়ে আরও অভিনয় করেছিলেন শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চি। জীবিত অবস্থায় তার মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ সিনেমা ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তৈরি করেছিল গভীর শূন্যতা। সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। সালমানের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে নায়ক সংকটের তৈরি হয় সেই সময় অনেক নায়ক আসেন। তাদের মধ্যে ফেরদৌস, রিয়াজ অন্যতম। কিন্তু পরবর্তীতে এরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।
আজ এই অমর নায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে সময়ের আলোর বিনম্র শ্রদ্ধা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে