পেঁয়াজ ছাড়া বাঙালি খাবারের কথা ভাবাই কঠিন। বিভিন্ন ধরনের তরকারি, ভর্তা কিংবা সালাদ -প্রায় সব ধরনের খাবারেই পেঁয়াজের ব্যবহার করে থাকি আমরা। রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
চলুন জেনে নিই, প্রতিদিনের খাবারে পেঁয়াজ রাখলে কী কী উপকার মিলতে পারে?
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ
পেঁয়াজে রয়েছে কোয়ারসেটিন নামের ফ্ল্যাভোনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। কোয়ারসেটিনের প্রদাহ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
হজমের জন্য ফাইবার
একটি মাঝারি থেকে বড় পেঁয়াজে আনুমানিক কয়েক গ্রাম ফাইবার পাওয়া যেতে পারে, যা দৈনিক খাদ্যতালিকায় ফাইবার যোগ করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ফাইবার মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং হজমতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, পেঁয়াজে থাকা কিছু প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবেও কাজ করতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে পরিমাণ ঠিক করা জরুরি।
কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে ভূমিকা
পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য উপকার করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। কিছু গবেষণায় পেঁয়াজ বা এর নির্যাস গ্রহণের সঙ্গে রক্তের লিপিড ও কোলেস্টেরলের মাত্রায় পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, নিয়মিত পেঁয়াজ খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে।
উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ -সবকিছুর গুরুত্ব রয়েছে।
রক্তচাপের ক্ষেত্রেও কি উপকারী?
পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিনসহ কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে, পেঁয়াজকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কারও রক্তচাপ বেশি থাকলে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, লবণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কম ক্যালরিতে কিছু পুষ্টি
পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালোরি তুলনামূলক কম। পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ফলে, বেশি ক্যালরিযুক্ত উপকরণের বদলে স্বাদ ও পুষ্টি বাড়াতে পরিমিত পেঁয়াজ খাবারে যোগ করা যেতে পারে।
কাঁচা, না রান্না করে খেতে হবে?
কাঁচা পেঁয়াজে কিছু তাপ সংবেদনশীল উপাদান তুলনামূলক ভালোভাবে বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, রান্নার সময় তাপের কারণে কিছু যৌগের পরিমাণ কমতে পারে। কাঁচা পেঁয়াজ খেতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। সালাদে কাঁচা পেঁয়াজ কিংবা রান্নায় পরিমিত পেঁয়াজ -দুভাবেই খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
সূত্র : হেলথ লাইন, এনডিটিভি
সময়ের আলো/মহু