বাড়ছে অপহরণ ও যৌন সহিংসতা, শিশুর নিরাপত্তায় অভিভাবকের করণীয়

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বর্তমান সময়ে শিশুরা অনেক বেশি অপহরণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের খবর, সর্বত্রই রোজ চোখে পড়ে

2026-09-07T14:34:32+00:00
2026-09-07T14:44:09+00:00
 
  সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
বাড়ছে অপহরণ ও যৌন সহিংসতা, শিশুর নিরাপত্তায় অভিভাবকের করণীয়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম  আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ২:৪৪ পিএম
শিশুকে সচেতন করলে অনেকক্ষেত্রেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ছবি : এআই
বর্তমান সময়ে শিশুরা অনেক বেশি অপহরণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের খবর, সর্বত্রই রোজ চোখে পড়ে দেশের কোথাও না কোথাও তারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তায় অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই অনেকটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আস্থা অর্জন করুন
সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করুন, যাতে সে যেকোনো ভালো-মন্দ বা ভয়ের কথা নির্দ্বিধায় আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুটি খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ার আভাস পেলেই অভিভাবককে নির্দ্বিধায় জানাতে পারবে।

Advertisement
মনোযোগ দিয়ে শুনুন
শিশু তার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলার সময় তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সে যদি কোনো পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের আচরণ সম্পর্কে অস্বস্তি প্রকাশ করে, তবে তা হালকাভাবে নেবেন না।

মৌলিক তথ্য মুখস্থ করান
শিশুকে মা-বাবার এবং তার নিজের পুরো নাম, বাসার ঠিকানা এবং অভিভাবকের ফোন নম্বর মুখস্ত করান। একইসঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ সম্পর্কে তাকে জানিয়ে রাখুন। এতে বিপদে পড়লে বা জরুরি সময়ে সে কারও কাছে সহজে সাহায্য চাইতে পারবে।

শিশুকে সচেতন করানোর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। ছবি : এআই

শিশুকে সচেতন করানোর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। ছবি : এআই


অপরিচিতদের ব্যাপারে সতর্ক করুন
অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা না বলা, কোথাও না যাওয়া বা তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুকে নিষেধ করুন। এই একটি ব্যপারে সচেতন থাকলে অনেক সময়ই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

কোড ওয়ার্ড নির্ধারণ করুন
পরিবারের জন্য একটি গোপন ‘কোড ওয়ার্ড’ ঠিক করে রাখুন। শিশুকে বলুন, মা-বাবা কোনো জরুরি প্রয়োজনে অন্য কাউকে তাকে স্কুলে আনতে পাঠালে, সেই ব্যক্তি যেন কোড ওয়ার্ডটি বলতে পারে। যদি সে তা না বলতে পারে, তবে শিশু যেন তার সঙ্গে না যায়।

একা রাখা থেকে বিরত থাকুন
পার্ক, শপিং মল, মেলা বা পাবলিক বাথরুমে শিশুকে কখনোই একা ছাড়বেন না। গাড়ির ভেতরেও শিশুকে কখনো একা রেখে যাবেন না। কিছু সময়ের বিচ্ছিন্নতা হতে পারে সারাজীবনের বিচ্ছিন্নতার কারণ!


নামের লেবেলের ব্যপারে সতর্ক থাকুন 
শিশুর স্কুল ব্যাগ বা পোশাকে এমনভাবে নাম লিখে রাখবেন না, যা দূর থেকে যে কেউ পড়ে নিতে পারে। কারণ, অপরিচিত কেউ নাম ধরে ডাকলে শিশুরা সহজেই তাকে বিশ্বাস করে ফেলে।

অনলাইন জগৎ পর্যবেক্ষণ করুন
ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনেক অপরাধী শিশুদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। শিশু ইন্টারনেটে কী দেখছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, সেদিকে নজর রাখুন।

ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন
ইন্টারনেটে শিশুর নিজের নাম, স্কুলের নাম, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার না করা থেকে নিজে বিরত থাকুন, শিশুকেও বিরত রাখুন।

গৃহকর্মী বা কেয়ারগিভার নিয়োগে পরিচয় যাচাই করুন
বাসায় কোনো গৃহকর্মী বা শিশুর দেখাশোনার জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা এবং পূর্ববর্তী কাজের ইতিহাস ভালোভাবে যাচাই করে নিন। সম্পূর্ণভাবে বিশ্বস্ত না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে তার কাছে একা রেখে বাইরে যাবেন না। 

খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করুন
শিশুর গোসল বা কাপড় পরিবর্তনের সময় বা অন্য কোনো সময় কেউ তার স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করলে সেটা মা-বাবাকে জানাতে বলুন। কেউ খারাপভাবে স্পর্শ করলে প্রতিবাদ করতে শেখান। উচ্চস্বরে ‘না’ বলে, দৌঁড়ে নিরাপদ জায়গায় যেতে বলুন এবং সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা কিংবা নিজের অন্য কোনো অভিভাবককে বিষয়টি জানাতে বলুন।

ছবির অপব্যবহার সম্পর্কে জানান
শিশুকে সতর্ক করুন যেন কেউ তার ব্যক্তিগত অংশের ছবি তুলতে না পারে এবং ইন্টারনেটেও যেন সে এমন কিছু না করে।

পরিচিতজনদের ব্যপারে সচেতন থাকুন
পরিবারের সদস্য বা নিকটআত্মীয় দ্বারা শিশু কোনোরকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছে কিনা, সে ব্যপারে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

সন্তান মা-বাবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর কোনো মা-বাবাকে যেন সন্তান হারানোর যন্ত্রণা ভোগ করতে না হয়, তাই এখনই সচেতন হোন এবং অন্য অভিভাবকদেরও সচেতন করুন। 

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   অপহরণ  যৌন সহিংসতা  শিশু  নিরাপত্তা  অভিভাবক  করণীয়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: