শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক মাদরাসাগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি মাদরাসায় শিশু বলাৎকারের ঘটনায় আলেম সমাজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, মাদরাসায় শিশু বলাৎকারের ঘটনায় আলেম সমাজের সোচ্চার প্রতিবাদ কোথায়? শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে সবার আগে ধর্মীয় নেতৃত্বকেই দাঁড়াতে হবে।
মনিরা শারমিন বলেন, সাভারের একটি আবাসিক মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু ছয় মাস ধরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মামলা ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুটি মাকে চিঠি লিখেছিল, ‘প্রথম ২০ দিন ভালোই ছিলাম মা...।’ সেই চিঠির বাকি অংশ পড়া যে কোনো সুস্থ মানুষের জন্যই অসহনীয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং অভিযোগ জানিয়েও শিশুটি যথাযথ সুরক্ষা পায়নি।
তিনি লেখেন, প্রশ্ন হলো, আবাসিক মাদরাসাগুলো কেন কার্যকর তদারকি, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আসবে না? একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ধর্মীয় হলেই কি তা জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়? স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হোস্টেল—সবখানেই যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন হয়, তাহলে হাজার হাজার শিশুর আবাসস্থল মাদরাসাগুলো কেন তার ব্যতিক্রম হবে?
তিনি আরও লেখেন, মাদরাসা ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র হওয়ার কথা। সেখানে যদি শিশুরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠে, যদি নির্যাতনের শিকার হয় এবং অভিযোগ করেও প্রতিকার না পায়, তবে প্রতিষ্ঠানের নৈতিক বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মনিরা শারমিন বলেন, ইদানীং প্রায়ই মাদরাসায় শিশু নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা জানছি। এসব ঘটনা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের সব আবাসিক মাদরাসার জন্য বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন, নিয়মিত অডিট, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা এবং স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা প্রবর্তন জরুরি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক মাদরাসাগুলোকে অবিলম্বে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
সময়ের আলো/জেডআই