সরকারকে কার্ড প্রথা বন্ধ করে জনসাধারণের উন্নয়নের কথা ভাবার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঝালকাঠি জেলায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, জনগণকে যদি কার্ড দিতে হয় তাহলে গ্যাস সংকটের কারণে জ্বালানি কাঠ দেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ কার্ড দেন, সার সংকট দূরীকরণে কৃষককে সারের কার্ড দেন। দলীয় পুনর্বাসনের জন্য কার্ড প্রথা বন্ধ করে সাধারণ নাগরিকদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করুন।
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির সারজিস আলম বলেন, সরকারের জায়গা থেকে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতার জায়গা হচ্ছে তাদের মনস্তাত্ত্বিক যে চিন্তা। সেই চিন্তাটা হলো পুরানো সময়ে যে চিন্তায় তারা রাজনীতি করেছে, ওই একই চিন্তা। কীভাবে তারা সবজায়গায় নিজেদের লোক ভরবে, সে যোগ্য হোক আর অযোগ্য হোক, সেই একই চিন্তা। তারা চিন্তা করছে কীভাবে সমাজে তাদের প্রভাব খাটানো যাবে। সেটা ভালো হোক, আর খারাপই হোক। তারা চিন্তা করছে কীভাবে অল্প সময়ে তাদের আখের গোছানো যাবে, এতে কোন একটা সিস্টেম ভালোভাবে চলুক আর না চলুক। এধরনের অদক্ষতা এবং অযোগ্যদের যদি মূল্যায়ন করা হয়।
সরকারের অসংগতি তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, একদিকে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহ্য করতে পারছে না, আরেকদিকে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হচ্ছে। থানা, ডিসি অফিসসহ প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয় সুপারিশ লাগে ঠিক আগের মতোই। যেখানে ন্যায্য বিচার পাবার কথা, সেখানে আপনি পাচ্ছেন না, যদি বিপরীতে সরকারি দলের যে কোন একজন হয়। তাহলে আপনাকে আপস করতে বলবে, আপস না করলে আপনাকে হুমকি দিবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমাদের মনে হচ্ছে সরকার ৬মাসের মধ্যে লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। ৬মাস পার হবার পরে এখন এমপিরা বলছে শিশু সরকার। ৬মাসে যদি শিশু থাকেন, ৫বছরের মধ্যে কবে আপনি কিশোর হবেন, তরুণ হবেন, কবে যুবক হবেন আর কবে বয়োবৃদ্ধ হবেন। সেটা আমাদের বললে আমরা সেই অনুযায়ী প্রশ্ন করবো। কিন্তু আমরা দেখছি সরকার নিজের দোষ তো স্বীকার করছেই না, সেখানে আমাদের সদস্যার সমাধান হবে না।
দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পালন করলো। তখন তো রাজনৈতিক সরকার ছিলো না এবং তাদের পিছনে রাজনৈতিক ব্যাকআপও ছিলো না। এসময়ে আমরা এতো সংকট দেখিনি, কিন্তু আমরা দেখছি বিএনপি একটার পরে একটা সংকট তৈরি করে যাচ্ছে। গ্যাসের সংকট, তীব্র লোডশেডিং, কৃষক ঠিকমতো সার পাচ্ছেন না, প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও যোগ করেন তিনি।
সময়ের আলো/আতা