বায়তুল্লাহর মেহমান গুনাহমুক্ত হয়ে ফেরেন

ফিরোজ আহমাদ

ইসলাম

ইসলামে মৌলিক পাঁচটি রুকনের মধ্যে হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান ও শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির ওপর হজ

2026-09-08T09:15:31+00:00
2026-09-08T09:15:31+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
বায়তুল্লাহর মেহমান গুনাহমুক্ত হয়ে ফেরেন
ফিরোজ আহমাদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ইসলামে মৌলিক পাঁচটি রুকনের মধ্যে হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান ও শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি বানিয়ে রাখা হয়েছিল তা ছিল বাক্কায় (তথা বর্তমান মক্কায়), এ ঘরকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় এবং পথপ্রদর্শক বানানো হয়েছিল।

এখানে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো, রয়েছে ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর স্থান, যে এখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। দ্বিতীয় মর্যাদা হচ্ছে মানবজাতির ওপর আল্লাহর জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যে, এ ঘর পৌঁছা পর্যন্ত যে ব্যক্তির সামর্থ্য থাকবে, সে যেন এ ঘরে হজ আদায় করে’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৬-৯৭)।

Advertisement
মুসলিম উম্মাহর জন্য পুরো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় পবিত্র স্থান হলো কাবা চত্বর। এই চত্বরের মধ্যে মুসলমানদের কেবলা তথা বায়তুল্লাহর অবস্থান। বায়তুল্লাহ সাধারণত কাবা শরিফ হিসেবে অধিক পরিচিত। এ ঘর জিয়ারত করা, তওয়াফ করা সৌভাগ্যের বিষয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হজ ও ওমরাহ পরিপূর্ণভাবে পালন করো’ (সুরা বাকারা : ১৯৬)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, ‘হজ ও ওমরাহ পালনে রওনাকারীরা আল্লাহ পাকের আহ্বানকৃত অভিযাত্রী। তাদের দোয়া তিনি কবুল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা মঞ্জুর করেন।’ (মিশকাত : ২৪২১)

আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বায়তুল্লাহ নির্মাণের পরিকল্পনাকারী। এ ঘর তিনি নবীদের মাধ্যমে বানিয়েছেন। সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়। বায়তুল্লাহর মর্যাদা সামান্য লিখনির মাধ্যমে শেষ করা যাবে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি যখন মানুষের মিলনস্থল ও নিরাপত্তার কেন্দ্র হিসেবে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম; তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থানটিকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো; আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন তাঁরা আমার ঘরকে তওয়াফকারীদের জন্য, আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগকারীদের জন্য, রুকু-সেজদাকারীদের জন্য নিরাপদ রাখে’ (সুরা বাকারা : ১২৫)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হজ করেছে এবং তাতে কোনোরূপ অশ্লীল কথা ও কাজ বলেনি ও করেনি, সে ব্যক্তি হজ হতে প্রত্যাবর্তন করবে বেগুনাহ অবস্থায়। সেদিনের ন্যায় যেদিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছে।’ (মিশকাত : ২৩৯৩)

বায়তুল্লাহ তওয়াফকারীরা সদ্য হওয়া নবজাত শিশুর মতো গুনাহমুক্ত। পবিত্র হজ পালনের মাধ্যমে হাজিরা পাপমুক্ত হন। হজের সফরে থাকাবস্থায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। হজের সফরে দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু স্থান ও সময় রয়েছে। এসব স্থানে দোয়া করলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন তালবিয়া পাঠ করার সময়, তওয়াফকালে, কালো পাথর চুমু দেওয়া অবস্থায়, কাবার গিলাফ স্পর্শ করার মুহূর্তে, সাফা-মারওয়া সাঈ করার সময়, জমজমের পানি পানের সময়, হাতিমে কাবায় দুই রাকাত নামাজ আদায়ের সময়, মাকামে ইবরাহিমের পাশে, মিনা, আরাফা, মুজদালিফায় অবস্থানের সময়, মসজিদে হেরেম শরিফে প্রবেশের পর, জামারায় কংকর নিক্ষেপের সময়, মসজিদে নববী, রিয়াদুল জান্নাহ, জান্নাতুল বাকি, জান্নাতুল মুওয়াল্লাসহ আরও অনেক স্থান ও সময়ে। হজের ইহরাম পরিধান অবস্থায় দোয়া করলে দোয়া ফেরত দেয় না।

বায়তুল্লাহ তওয়াফকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও সওয়াবের কাজ। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো হাজির সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম বিনিময় করবে, করমর্দন করবে এবং তাকে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানাবে তার গৃহে প্রবেশের আগে। কেননা হাজি হলেন গুনাহ ক্ষমাকৃত পবিত্র ব্যক্তি’ (মিশকাত : ২৪২৩)।


হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হজ এবং ওমরাহ একসঙ্গে করো। কেননা এটা দরিদ্রতা ও গুনাহ বিদূরিত করে, যেভাবে হাপর লোহা এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের ময়লা দূর করে। মকবুল হজের পুণ্য বেহেশত ব্যতীত কিছুই নয়’ (মিশকাত : ২৪১০)। হজের সফরে একাধিক ওমরাহ পালনের সুযোগ পাওয়া যায়। কারণ হজের মূল পর্বের পাঁচ দিন ব্যতীত হাজিদের হাতে অনেক সময় থাকে। যারা আল্লাহর ঘর তওয়াফের উদ্দেশে বের হন তারা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়া পরম সৌভাগ্য বিষয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ থেকে পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত মাঝখানের গুনাহগুলোর জন্য কাফফারাস্বরূপ।’ (বুখারি : ১৬৮৩)

আমাদের দেশে অনেক সম্পদশালী মুসলমান আছেন। তাদের ওপর অনেক আগেই হজ ফরজ হয়েছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে যেমন ছেলেমেয়ের বিয়েশাদি, বাড়িঘর সম্পন্ন করা, ব্যবসা-বাণিজ্য গুছিয়ে নেওয়া ইত্যাদি দেখিয়ে হজ আদায়ে গড়িমসি করে থাকেন। অনেকে আবার বৃদ্ধ বয়সে হজ করার আশায় থাকেন। অনেকেই বলেন হজ ফরজ হয়েছে কিন্তু বয়স হয়নি। চুল-দাড়ি পাকা ধরুক তারপর হজে যাব। অনেকেই বলেন বাবা-মার মৃত্যুর আগে হজ আদায় হয় না।

দুর্ভাগ্য যে, তাদের অনেকেই এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আবার অনেকেরই আর্থিক দীনতা ও শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়। ফলে তারা হজ আদায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত ও নেয়ামত থেকে মাহরুম হয়ে যায়। অনেকেই ভাবেন আমি হজে গেলে সংসার কীভাবে চলবে। এটা এক ধরনের গোমরাহি। আমার আপনার অনুপস্থিতিতেও সংসার চলবে। কারণ রিজিকের মালিক আল্লাহ। আপনার সংসার-সমাজ সবকিছুই চলবে। কিন্তু আপনি থাকবেন না। যারা হজ করতে যায় তারা আল্লাহ তায়ালার খাস মেহমান। আর আল্লাহর মেহমানের সংসার আল্লাহ তায়ালাই দেখাশোনাার দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। আর যে ব্যক্তি হজ আদায় করবে তার সম্পদ কখনো কমবে না, বরং আরও বরকতময় হবে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে পবিত্র হজের আমল করার তওফিক দান করুক।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   বায়তুল্লাহ  মেহমান  গুনাহ 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: