হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকে বদনজর

মাহমিয়া আলম শান্তা

ইসলাম

অনেকেই বলেন, ‘নজর বলে কিছু নেই, এসব কুসংস্কার’। কারও নতুন চাকরি, গাড়ি, বিয়ে, সন্তান কিংবা জীবনে হঠাৎ ভালো কিছু ঘটলে

2026-09-08T09:20:34+00:00
2026-09-08T09:23:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকে বদনজর
মাহমিয়া আলম শান্তা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ এএম  আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৯:২৩ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
অনেকেই বলেন, ‘নজর বলে কিছু নেই, এসব কুসংস্কার’। কারও নতুন চাকরি, গাড়ি, বিয়ে, সন্তান কিংবা জীবনে হঠাৎ ভালো কিছু ঘটলে ‘নজর থেকে সাবধান’ কথাটি শুনলে আমরা অনেক সময় তাকে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু নজর নিয়ে এই বিশ্বাসকে কি ইসলাম সত্যিই সেভাবে দেখে?

প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল-আয়নু হাক্ক’ বা নজর সত্য। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এই মর্মের হাদিস রয়েছে। সহিহ মুসলিমের ৫৫৯৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, ‘নজর সত্য; যদি কোনো কিছু তকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে তা হতো নজর।’ পবিত্র কুরআনের সুরা ফালাকেও আল্লাহ শিখিয়েছেন, ‘হিংসুক যখন হিংসা করে, তার অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাই।’ (সুরা ফালাক : ৫)।

Advertisement
দৃষ্টির পেছনের বৈজ্ঞানিক যুক্তিটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ যখন কারও দিকে তাকায়, তখন শুধু চোখ কাজ করে না; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনুভূতি, মূল্যায়ন, ঈর্ষা বা বিদ্বেষ। ভালোবাসার দৃষ্টি আর হিংসার দৃষ্টি কখনো এক নয়। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের এই মানসিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে। বিশেষ করে সামাজিক ও মূল্যায়িত হুমকির আশঙ্কা মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী স্যালি এস. ডিকারসন ও মার্গারেট ই. কেমেনির ২০০৪ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সামাজিকভাবে বিচারিত হওয়ার আশঙ্কা মানুষের শরীরে কর্টিসলনির্ভর মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করতে পারে। অর্থাৎ অন্যের নেতিবাচক দৃষ্টি আমাদের কাছে অর্থহীন নয়। কেউ যখন বিচারমূলক দৃষ্টিতে তাকায়, তখন বুক ধড়ফড় করা, হাত ঘামা বা মাথা ভারী হওয়ার মতো বাস্তব চাপ সৃষ্টি হতে পারে। মন ও শরীর যে আলাদা কিছু নয়, বিজ্ঞান আজ তা প্রমাণ করেছে।

এখানে নোসিবো ইফেক্টের কথাও চলে আসে। কোনো নেতিবাচক আশঙ্কা বা ভয়ের কারণে মানুষের শারীরিক অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। সুনান ইবনে মাজার ৩৫০৬ নম্বর হাদিসে সাহাবি সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-এর ঘটনায় দেখা যায়, আমির ইবনে রাবিয়াহ (রা.) তাঁর সৌন্দর্য দেখে প্রশংসা করার পর সাহল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বরকতের দোয়া করার শিক্ষা দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের কেউ কেন তার ভাইয়ের জন্য বরকতের দোয়া করে না?’ অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রশংসার ক্ষেত্রেও ইসলাম সতর্ক থাকতে বলেছে।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের সাফল্য, নতুন বাড়ি বা বিদেশযাত্রা দেখছি। কেউ আনন্দ নিয়ে দেখলেও কেউ কেউ অজান্তেই ঈর্ষা পোষণ করি। আমরা প্রায়ই নজরকে অন্যের চোখের সমস্যা ভাবলেও নিজের চোখের ভেতর কী আছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। ইসলাম তাই হিংসুক থেকে আশ্রয় চাইতে এবং অন্যের ভালো দেখলে বরকতের দোয়া করতে শিখিয়েছে। বিজ্ঞানও আমাদের দেখাচ্ছে যে সামাজিক মূল্যায়ন ও নেতিবাচক প্রত্যাশা শরীর ও মনে বাস্তব প্রভাব ফেলে। তাই কারও সাফল্য দেখে হিংসা না করে, তার জন্য বরকত প্রার্থনা করা উচিত। কারণ নজর নিয়ে আসল প্রশ্নটি এটি নয় যে নজর আছে কি নেই; বরং প্রশ্ন হলো— আপনি যখন অন্যের দিকে তাকান, আপনার চোখে আসলে কী থাকে।

লেখক : শিক্ষার্থী, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   হাদিস  বিজ্ঞান  বদনজর 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: