প্রত্যাশা পূরণ করতে দেয়নি প্রশাসন : এস‌এম ফরহাদ

ঢাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং সামনের

2026-09-09T01:27:30+00:00
2026-09-09T01:27:30+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা
সময়ের আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকার
প্রত্যাশা পূরণ করতে দেয়নি প্রশাসন : এস‌এম ফরহাদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ এএম 
প্রত্যাশা পূরণ করতে দেয়নি প্রশাসন : এস‌এম ফরহাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং সামনের পরিকল্পনা কী— এসব নিয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাবি প্রতিনিধি। 

সময়ের আলো : আপনাদের প্রথম ইশতেহারে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা রেখে যাচ্ছেন?

Advertisement
এস‌এম ফরহাদ : আমরা সবাই ডাকসুকে একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়ার জন্য বিষয়টি সিন্ডিকেট মিটিংয়ে আনতে বাধ্য করেছি এবং আমাদের দ্বিতীয় মিটিংয়ে এটি এজেন্ডায় ছিল। সিন্ডিকেটে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে গত প্রশাসনের সময়। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন যেমন নিয়মিত হয়, তেমনি ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে চিঠি গিয়েছে ক্যালেন্ডার কমিটিতে। বাকিটা ক্যালেন্ডার কমিটির ওপর। পরবর্তী ক্যালেন্ডার কমিটির মিটিং যখন হবে, তখন এটা যুক্ত করে দিলেই কাজ শেষ। ক্যালেন্ডার কমিটির মিটিং আগামী বছরের ক্যালেন্ডার তৈরি করার সময় হবে। আর ডাকসু নিয়মিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্তটা হয়েছে।

প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত ও আবাসন সংকট সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে?

আবাসন সংকটের ক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা ছিল জোড়াতালি দিয়ে কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে যাওয়া। সে লক্ষ্যেই ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো প্রকল্প ছিল না। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি নিজেরাও মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এটি শুধু ডাকসুর একক অর্জন নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন।


আমাদের স্টাডি অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আবাসন সংকটের ৭০ শতাংশের বেশি সমাধান হবে। এর ফলে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করাও অনেকাংশে সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে উদ্বোধন পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে।

কিন্তু অজানা কারণে নতুন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিটিং করে। সেই মিটিংয়ে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। এর ফলে কী হয়েছে? কাজ পোস্টপন থাকবে, এটা আবার ডিভিশনে যাবে। মানে সময় নষ্ট।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে পেরেছেন কি না?

খাবারের মানটা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারিনি। এটা আমি অ্যাগ্রি করি। কিন্তু অলমোস্ট বেশিরভাগ জিনিসই— আমাদের দিক থেকে যা যা করা দরকার, আমরা করেছি। 

খাবারের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্যান্টিনগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে প্রফেশনাল অ্যাপ্রোচ, যেখানে পূর্ণাঙ্গ ফুড সেফটি অথরিটি দিয়ে খাবারের মান পরীক্ষা করা হবে, প্রতিটি টেস্টে প্রায় লাখ টাকা খরচ হয়। এখন ১৮ লাখ টাকা খরচ করে প্রতি সপ্তাহে টেস্ট করার মতো অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় দেবে না।

আমরা যদি বাইরে থেকে প্রাইভেট টিম নিয়ে এটি করতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় সেটিও করতে দেবে না। প্রাইভেট টিম দিয়ে পরীক্ষা করালে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এর দায়ভার শিক্ষার্থীরা তাদের দেবে। তাই আমাদের দিয়ে এটিও করতে দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ তারা নিজেরাও করবে না, আবার আমাদেরও করতে দেবে না।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা এবং প্রক্টরিয়াল টিম ও ছাত্রী হলগুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নারী কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটি বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন কি না?

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহনের কাজ আমরা চলমান রেখেছি। ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুর ব্যবস্থাও করেছিলাম। রিকশা রেজিস্ট্রেশন, রিকশার তালিকা তৈরি ও ভাড়া নির্ধারণ— এসব কাজ আমরা করেছি। এমনকি রিকশার জন্য ড্রেসও প্রিন্ট হয়ে গেছে। বাকি কাজ হচ্ছে চ্যাকবক্সগুলো ম্যানেজ করা। এ বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পুলিশের ডিএমপির সঙ্গে দেখা করেছি। তারা পুলিশ সাপোর্ট দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু বাধা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করছে না।

শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করার কথা ছিল, করতে পেরেছেন কি?

এটিও লাস্ট স্টেজে আছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যে বিভাগগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছে যে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র রয়েছে, সেটি দেওয়া হয়েছে এবং এখন বিভাগগুলো এতে নিজেদের মতামত ও ইনপুট দিচ্ছে। অর্থাৎ বিভাগগুলোর প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে নতুন কোনো প্রশ্ন যুক্ত হবে কি না— এ বিষয়টিই এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

ঢাবির বাসগুলোকে রিয়েলটাইম ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে এ উদ্যোগের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন কোন অবস্থায়?

এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজটি প্রস্তুত করে দিয়েছি। রিয়েলটাইম বাস ট্র্যাকিংয়ের জন্য সিস্টেমটি তৈরি করে চালু করা হয়েছে। এরপর চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাস কমিটির সঙ্গে বসে তাদের কাছে সিস্টেমটি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ট্রায়ালও চালানো হয়েছে। সবকিছু যাচাই শেষে আমরা এর ফাইনাল ও আপডেটেড ভার্সন আইসিটি বিভাগকে হস্তান্তর করেছি। এটি আমাদের একটি সফল প্রকল্প হিসেবে আমরা হ্যান্ডওভার করেছি। কিন্তু এখন তারা যুক্তি দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ফিক্সড নয়, কিংবা ট্র্যাকিং সিস্টেম চালাতে নতুন ডিভাইস কিনতে হবে। কিন্তু আমরা যে সিস্টেমটি তৈরি করেছি, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে হ্যান্ডওভারও করা হয়েছে। তাই আমাদের পক্ষ থেকে যে কাজগুলো করার ছিল, আমরা সেগুলো সম্পন্ন করেছি। 

পরবর্তী ডাকসু নিয়ে কী ভাবছেন?

আমাদের ১৪ তারিখে ইসি মিটিং হওয়ার কথা। তাই আমরা ১৩ তারিখের মধ্যেই সব কার্যক্রম গুছিয়ে শেষ করার কথা ভাবছি। আমি ইতিমধ্যে ভিসিকে বলেছি, ১৪ তারিখ যেন তফসিল ঘোষণা করে দেওয়া হয়। তফসিল ঘোষণার দিনটিকেই আমরা আমাদের দায়িত্বের শেষ দিন হিসেবে দেখতে চাই।

অতিরিক্ত তিন মাস বা মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আমাদের মোটেও কোনো চিন্তা নেই। সংবিধানের বলা আছে, তফসিল ঘোষণা না হলে মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তে থাকবে। কিন্তু আমরা সেই পথে যেতে চাই না।

আমরা চাই, আমাদের দায়িত্বের সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, সবকিছু ক্লোজ করে বিদায় নিতে। তফসিল ঘোষণা না হলে মেয়াদ বাড়তে থাকার একটি সুযোগ থেকে যায়। আমরা সেটা চাই না; আমরা চাই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই আমাদের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হোক।

ধন্যবাদ আপনাকে 

সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   প্রত্যাশা পূরণ  প্রশাসন  এস‌এম ফরহাদ  ডাকসু 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: