দিশার স্বপ্নের ব্র্যান্ড

তাসলিমা নীলু

ফিচার

টাঙ্গাইলের মেয়ে আফরিন দিশা থেমে থাকেননি বলেই আজকে তার এই পথচলা। তার ব্যবসার পথচলা শুরু ২০১১ সালে যখন তিনি মাত্র

2026-09-09T03:45:53+00:00
2026-09-09T03:45:53+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
দিশার স্বপ্নের ব্র্যান্ড
তাসলিমা নীলু
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের মেয়ে আফরিন দিশা থেমে থাকেননি বলেই আজকে তার এই পথচলা। তার ব্যবসার পথচলা শুরু ২০১১ সালে যখন তিনি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই সময়ে তিনি গ্রামীণফোনের কল সেন্টারেও কাজ করতেন। হঠাৎ একদিন তার মাথায় চিন্তা এলো ব্যবসা করার। যেহেতু তিনি টাঙ্গাইলের মেয়ে তাই ভাবলেন শাড়ি দিয়ে শুরু করবেন। তিনি গ্রামীণফোনের বিভিন্ন ট্র্যাডিশনাল প্রোগ্রাম ও ফেয়ারে টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে যেতেন। আস্তে আস্তে সবাই তার শাড়িগুলো পছন্দ করতে শুরু করেছিল। একসময় অফিসের সবাই তাকে টেক্সট করত, ই-মেইল করত— শাড়ি আছে? নতুন শাড়ি কি এসেছে? সত্যি বলতে, তখন তার ভীষণ ভালো লাগত। খুব মজা পেতেন এই ভেবে যে, তার পছন্দের জিনিসগুলো অন্যরাও পছন্দ করছেন।

তার শুরুটা হয়েছিল মাত্র চার হাজার টাকা দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে আজকের অবস্থানে আসা। শুরুতে বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস, নিজের ডিজাইন করা শাড়ি বিক্রি করতেন। তবে তার মূল ব্যবসাটা সত্যিকার অর্থে জমে ওঠে করোনার সময়। সেই সময় তিনি অনলাইনে পেইজ খুলে শুরু করলেন মেয়েদের জন্য রেডি পোশাক বিক্রি। তখন ব্যবসায় এমন একটি সময় এসেছিল যে, প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকার পণ্য যাওয়া শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে সেটা বেড়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকার পণ্য পর্যন্ত যেতে থাকে। এর চেয়েও বেশি পণ্য তিনি দিতে পারতেন। কিন্তু তখন তার পর্যাপ্ত কারিগর ছিল না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে প্যাকিং করতে হতো। তাই চাইলেও এর বেশি অর্ডার ডেলিভারি দেওয়া দিশার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

Advertisement
ব্যবসার প্রসার দেখে একদিন তিনি ভাবলেন, ‘দেখি তো, একটা শপ নিলে কেমন হয়?’ মিরপুর মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের ৪র্থ তলায় মাত্র ৯০ স্কয়ার ফিটের একটি ছোট দোকান। মাসিক ভাড়া মাত্র চার হাজার টাকা। সেখান থেকেই শুরু হলো ‘এঞ্জেল ক্লোজেট বিডি’। 


তিনি দোকান নেওয়ার সময় স্বপ্নেও ভাবেননি এরপর কী হতে যাচ্ছে! মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এমন কিছু হলো, যা দিশার কল্পনারও বাইরে ছিল। মানুষ সিরিয়াল দিয়ে তার দোকানে শপিং করতে যেতেন। ক্রেতাদের চাহিদায় মিরপুর নিউ মার্কেটে শুরু হলো ৪২০ স্কয়ার ফিটের আরেকটি শোরুম। সেই শোরুম নেওয়ার মাত্র ৬ মাসের মাথায় আরও বড়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হলো তার। এর প্রায় ২ বছর পর শুরু হলো ধানমন্ডি সীমান্ত সম্ভারে তাদের আরও একটি শোরুম। এরপর আর কখনো দিশাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আগে যেখানে দিশা নিজের পরিবার নিয়ে পণ্য রেডি করে ডেলিভারি দিতেন এখন সেখানে অনলাইন ও শোরুম মিলে তার কর্মী সংখ্যা ২১ জন। দিশার কারখানায় তৈরি হয় তার নিজস্ব ডিজাইনার কুর্তি, টুপিস, থ্রিপিস। এ ছাড়া তিনি সরাসরি পাকিস্তান থেকে থ্রিপিস নিয়ে আসেন। 

ব্যবসার জন্য প্রয়োজন মেধা, ধৈর্য ও পরিশ্রম। দিশা মনে করেন, ব্যবসা করতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মেধা, ধৈর্য আর পরিশ্রম। টাকাও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মেধা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে শুধু টাকা দিয়ে একটি ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য। প্রায় ১০ বছর অপেক্ষা করার পর তার নিজের অ্যাসেট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তাই কেউ যদি মনে করেন, একটি ফেসবুক পেজ খুললেই ব্যবসা খুব আরামে হয়ে যাবে, অনেক সেল হবে, খুব দ্রুত সফল হওয়া যাবে তা হলে সেটা বাস্তবতা নয়।

ব্যবসায় অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক ধৈর্য ধরতে হয়। অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিপরীতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক বছর লেগে থাকতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে একটি ব্র্যান্ড পজিশন তৈরি হয়। আজ পেছনে তাকালে ৪ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা সেই ছোট্ট পথচলার কথা মনে পড়ে। মনে হয় আমি থামিনি বলেই আজ এখানে আসতে পেরেছি। শুরুটা ছোট হতে পারে, কিন্তু স্বপ্নটা বড় হওয়া চাই। আর তার থেকেও বেশি দরকার লেগে থাকার ক্ষমতা। বাকি সব মহান আল্লাহর ইচ্ছা।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি    
  বিষয়:   দিশা  স্বপ্নের ব্র্যান্ড  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: