আশির দশকের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল কিংবা পুরোনো দিনের ছবির আবেদন যেন আবারও ফিরে এসেছে। তবে এবার পুরোনো অ্যালবাম ঘেঁটে নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নিজের বর্তমান ছবিকেই ১৯৮০-এর দশকের ছবিতে রূপ দিচ্ছেন অনেকে।
ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া নতুন এই ট্রেন্ডে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি চ্যাটজিপিটিতে দিয়ে সেটিকে আশির দশকের আদলে তৈরি করতে বলছেন। এরপর সেই ছবি শেয়ার করছেন ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে। কেউ বানাচ্ছেন পুরোনো পারিবারিক অ্যালবামের মতো ছবি, কেউ আবার বলিউডের আশির দশকের স্টুডিও পোর্ট্রেটের আদল বেছে নিচ্ছেন।
সাধারণ ভিনটেজ ফিল্টারের সঙ্গে এই ট্রেন্ডের পার্থক্য হলো, এখানে শুধু ছবির রং বা আবহ বদলানো হয় না। এআইয়ের মাধ্যমে পোশাক, চুলের ধরন, অলংকার, পেছনের দৃশ্য, আলো এবং ছবির টেক্সচারও আশির দশকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে দেওয়া যায়।
কেমন হয় আশির দশকের ছবি?
এ ধরনের ছবিতে সাধারণত উষ্ণ আলো, হালকা ঝাপসা ভাব, কিছুটা বিবর্ণ রং এবং পুরোনো ফিল্মের দানাদার আবহ রাখা হয়। চাইলে ছবিটিকে পুরোনো পারিবারিক ছবি, বিয়ের ছবি, ম্যাগাজিনের পোর্ট্রেট কিংবা টেলিভিশন যুগের স্টুডিও ছবির মতো করে তোলা যায়।
ভারতীয় আবহ চাইলে শাড়ি, বড় আকারের গয়না, ঘন ও ফোলানো চুল, গোঁফ, ঢিলেঢালা শার্ট কিংবা উঁচু কোমরের প্যান্টের মতো আশির দশকের জনপ্রিয় পোশাক ও সাজও যোগ করা যায়।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?
এর মূল আকর্ষণ নস্টালজিয়া। মানুষ শুধু নিজের ছবিকে পুরোনো দেখাতে চাইছেন না; বরং অন্য একটি সময়ে নিজেকে কেমন দেখাত, সেটি কল্পনা করে দেখতে পারছেন।
কেউ চাইছেন আশির দশকের বলিউড তারকার মতো পোর্ট্রেট, কেউ পুরোনো ভারতীয় পারিবারিক অ্যালবামের আবহ, আবার কেউ সেই সময়ের স্টুডিও ফটোগ্রাফের আদল। ফলে ব্যক্তিগত ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ব্যক্তিগত নস্টালজিয়া।
চ্যাটজিপিটিতে কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। প্রথমে এমন একটি পরিষ্কার ছবি বেছে নিতে হবে, যেখানে মুখ স্পষ্ট দেখা যায়। এরপর ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে আশির দশকের কাঙ্ক্ষিত ধরনটি লিখে দিতে হবে।
শুধু ‘ছবিটিকে পুরোনো করে দিন’ বলার পরিবর্তে পোশাক, চুল, পেছনের দৃশ্য, আলো এবং ছবির ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারে।
প্রথমবারের ফলাফল পছন্দ না হলে পরবর্তী নির্দেশনায় শুধু চুল, পোশাক, পটভূমি বা আলোর ধরন পরিবর্তন করতে বলা যায়। একই সঙ্গে মুখের বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশও দেওয়া যায়।
সাধারণ একটি প্রম্পট
‘এই ছবিটিকে বাস্তবসম্মত ১৯৮০-এর দশকের একটি ছবিতে রূপান্তর করুন। আমার মুখ, মুখের বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি যেন স্পষ্টভাবে চেনা যায়। পোশাক, চুলের ধরন ও আনুষঙ্গিক সাজ আশির দশকের উপযোগী করুন। উষ্ণ অ্যানালগ আলো, হালকা ফিল্ম গ্রেইন, কিছুটা বিবর্ণ রং ও সফট ফোকাস ব্যবহার করুন। ছবিতে থাকা আধুনিক উপাদানগুলো সরিয়ে দিন। ছবিটি যেন শুধু ভিনটেজ ফিল্টার দেওয়া আধুনিক ছবি না মনে হয়ে সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি ছবি মনে হয়।’
বলিউডের আশির দশকের আবহ
ভারতীয় বা বলিউডের আবহ চাইলে আরও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া যায়। যেমন—ছবিটিকে আশির দশকের বলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেট হিসেবে তৈরি করতে বলা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে রঙিন শাড়ি, বড় গয়না ও আশির দশকের ফোলানো চুলের স্টাইল এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সময়ের শার্ট, উঁচু কোমরের প্যান্ট ও স্টুডিও ব্যাকড্রপ যোগ করা যায়।
এ ছাড়া পুরোনো পারিবারিক অ্যালবাম, আশির দশকের বিয়ের ছবি, ম্যাগাজিনের পোর্ট্রেট কিংবা ১৯৮৭ সালের ভারতীয় রাস্তার দৃশ্য—এমন নির্দিষ্ট থিমও বেছে নেওয়া যায়।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ারও করা যাচ্ছে
ছবি তৈরি হওয়ার পর সেটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করা যায়। এই ট্রেন্ডের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামের ‘অ্যাড ইয়োরস’ স্টিকারও যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী অন্যদেরও একই ধরনের ছবি তৈরি করে শেয়ার করার আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
ফলে আশির দশকের স্মৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণ এবং এআই-নির্ভর ছবি তৈরির সমন্বয়ে নতুন এই ট্রেন্ডটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সময়ের আলো/কেএইচ