জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদুল আলম শেখ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আসাদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ‘চ্যানেল ১৪’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোর্টালে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা হতো। তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পোস্টার লাগানো এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট দাবি করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
হল সূত্রে জানা যায়, আসাদুলের কক্ষে কয়েক মাস ধরে এক বহিরাগত অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে গিয়ে ওই ব্যক্তিসহ আসাদুলকে আটক করেন। পরে হল প্রশাসন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে আসাদুলের মোবাইলফোন পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার ফোনে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে কথোপকথনের চ্যাটও পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন।
একটি চ্যাটে আসাদুলকে উদ্দেশ্য করে জিতু লেখেন, আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি, একটু মাথায় রাখিস। কোনো কারণে হেরে গেলে তোদেরও ঝামেলা হবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে।
এর পরদিনের আরেকটি কথোপকথনে জিতু লেখেন, আসাদ, তুই নির্বাচনটা করলে ঝামেলায় পড়বি। আমাকেই নিয়ে এত কিছু শুরু করছে, তাহলে ভাব তোর কী হবে।
শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্ট ড. লুৎফুর এলাহি বলেন, আসাদুলের রুমে যাকে পাওয়া গিয়েছে, সে আমাদের ছাত্র না, বহিরাগত এবং অগোচরে, গোপনে এসেছিল অনুমতি না নিয়ে।
সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, আসাদুল নিজে স্বীকার করেছে যে চার-পাঁচ মাস ধরে তার এক কাজিন তার রুমে অবস্থান করছে, যেটা বেআইনি। তার যে অপরাধ, সেটা বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে এবং আইনের হাতে আমরা তুলে দিয়েছি। তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।
এ বিষয়ে জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সময়ের আলো/জোই