ডোপামিন জুয়েলারি : গয়নায় মন ভালো রাখার কৌশল

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

গয়না সাধারণত সাজসজ্জার অংশ হিসেবেই দেখা হয়। তবে প্রিয় কোনো আংটি, মায়ের দেওয়া চুড়ি কিংবা বিশেষ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা

2026-09-09T23:25:28+00:00
2026-09-09T23:25:28+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
ডোপামিন জুয়েলারি : গয়নায় মন ভালো রাখার কৌশল
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম 
বর্তমানে ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘ডোপামিন ড্রেসিং’ বেশ আলোচিত। সংগৃহীত ছবি
গয়না সাধারণত সাজসজ্জার অংশ হিসেবেই দেখা হয়। তবে প্রিয় কোনো আংটি, মায়ের দেওয়া চুড়ি কিংবা বিশেষ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি লকেট কখনো কখনো সাজের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে ওঠে। এগুলো আমাদের মনে আনন্দ, ভালোবাসা কিংবা নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘ডোপামিন ড্রেসিং’ বেশ আলোচিত। সহজভাবে বললে, এমন পোশাক বা রং বেছে নেওয়াই ডোপামিন ড্রেসিং, যা পরলে নিজের মধ্যে আনন্দ ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়। একই ধারণা অলংকারের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ এমন গয়না বেছে নেওয়া, যা শুধু চেহারায় সৌন্দর্য যোগ করবে না, বরং নিজের প্রতি ভালো লাগা এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়াতে পারে। 

Advertisement
ছোটবেলায় মা, দাদি বা নানিরা শিশুদের কানে দুল, হাতে চুড়ি কিংবা পায়ে নূপুর পরিয়ে দিতেন। এর পেছনে শুধু সৌন্দর্যের বিষয় ছিল না; অনেকের বিশ্বাস ছিল, গয়নার সঙ্গে মন ভালো থাকারও একটি সম্পর্ক আছে। আধুনিক ফ্যাশন ও মনোবিজ্ঞানের আলোচনাতেও ব্যক্তিগত পছন্দ, রং, স্মৃতি এবং স্পর্শের মতো বিষয়গুলো মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধরা হয়।

তাহলে মন ভালো রাখতে কেমন গয়না বেছে নেওয়া যেতে পারে?

উজ্জ্বল রঙের গয়না হতে পারে মুড বুস্টার

মন খারাপ বা একঘেয়েমি কাটাতে গয়নার রঙের দিকে একটু নজর দিতে পারেন। উজ্জ্বল রঙের পাথর বসানো আংটি, কানের দুল, লকেট কিংবা ব্রেসলেট আপনার সাজে প্রাণবন্ত ভাব আনতে পারে।

হলুদ রঙকে সাধারণত আনন্দ, উষ্ণতা ও আশাবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তাই হলুদ পাথরের কোনো ছোট গয়না দৈনন্দিন পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অন্যদিকে সবুজ রং প্রকৃতি, প্রশান্তি ও সতেজতার অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। পান্না বা অন্য কোনো সবুজ পাথরের আংটি কিংবা লকেট তাই শান্ত ও সতেজ একটি আবহ তৈরি করতে পারে।

নীলাভ রঙের অ্যাকুয়ামেরিনও অনেকের কাছে প্রশান্তির প্রতীক। এর কোমল রং চোখে আরাম দেয় এবং সাজে একটি শান্ত, পরিপাটি ভাব যোগ করে।

অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট রং দেখলেই সবার মন একইভাবে ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত পছন্দই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে রং আপনাকে আনন্দ দেয়, সেটিই আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

আত্মবিশ্বাস কমে গেলে বেছে নিন বোল্ড জুয়েলারি

কখনো কখনো পোশাক ঠিকঠাক থাকলেও নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভূত হয়। এমন দিনে খুব ছোট বা সাধারণ গয়নার বদলে একটু নজরকাড়া অলংকার বেছে নিতে পারেন।

বড় কানের দুল, মোটা ধাতব চেইন, প্রশস্ত বালা কিংবা চোখে পড়ার মতো একটি আংটি পুরো সাজের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে নিজের চেহারা ও উপস্থিতি নিয়ে আলাদা করে সচেতনতা তৈরি হয়।

একটি বোল্ড গয়না অনেক সময় পোশাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগও দেয়। ফলে আয়নায় নিজেকে দেখে ভালো লাগা তৈরি হতে পারে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।


স্মৃতির সঙ্গে জড়িত গয়নার আলাদা মূল্য আছে

সব গয়নার দাম বা সৌন্দর্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখনো একটি সাধারণ আংটির মূল্য অনেক বেশি হতে পারে, কারণ সেটির সঙ্গে কোনো প্রিয় স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

মায়ের দেওয়া একটি পুরোনো আংটি, প্রিয় মানুষের উপহার দেওয়া লকেট কিংবা জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সময় নিজের কেনা ব্রেসলেট, এসব গয়না দেখলেই অতীতের আনন্দের মুহূর্ত মনে পড়ে যেতে পারে।

এই ধরনের স্মৃতিবাহী বস্তু আমাদের পরিচিত ও নিরাপদ অনুভূতি দিতে পারে। মন খারাপের সময় প্রিয় কোনো গয়না হাতে নেওয়া বা পরে নেওয়া তাই অনেকের জন্য মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

এখানে গয়নার বস্তুগত মূল্য নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুশ্চিন্তার সময় স্পিনার রিং ব্যবহার করা যেতে পারে

যাঁরা অস্থিরতা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার সময় বারবার নখ খোঁটেন, আঙুল নাড়াচাড়া করেন কিংবা অন্য কোনো অভ্যাসে চলে যান, তাঁদের জন্য স্পিনার রিং একটি বিকল্প হতে পারে।

এই ধরনের আংটির কোনো একটি অংশ ঘোরানো যায়। অস্থির লাগলে সেটি আঙুল দিয়ে ঘোরানোর মাধ্যমে মনোযোগ কিছুটা অন্যদিকে নেওয়া সম্ভব।

এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে হাতের একটি ছোট কাজে মনোযোগ দেওয়া সাময়িকভাবে অস্থিরতা থেকে মন সরাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা হাত দিয়ে কিছু নাড়াচাড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাঁদের কাছে এ ধরনের আংটি আরামদায়ক মনে হতে পারে।

তবে উদ্বেগ যদি নিয়মিত জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি করে, শুধু গয়নার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

নূপুর বা চুড়ির শব্দেও থাকতে পারে প্রশান্তি 

গয়নার সৌন্দর্য শুধু দেখা বা স্পর্শ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু অলংকারের শব্দও আমাদের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নূপুরের মৃদু ঝংকার কিংবা চুড়ির টুংটাং শব্দ অনেকের কাছে আনন্দদায়ক। হাঁটাচলার সঙ্গে তৈরি হওয়া এই পরিচিত শব্দ মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং চারপাশের মুহূর্ত সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারে।

অবশ্য শব্দের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে অভিজ্ঞতা আলাদা। কারও কাছে চুড়ির শব্দ প্রশান্তিদায়ক, আবার অন্য কারও কাছে সেটি বিরক্তিকর হতে পারে। তাই নিজের অনুভূতিকেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সোনার গয়না নিয়ে প্রচলিত ধারণা

সোনার গয়না আমাদের সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে। অনেক প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি ও লোকবিশ্বাসে সোনাকে শরীরের জন্য উপকারী একটি ধাতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে সোনা পরলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে বা উদ্বেগ সরাসরি কমে যায়—এ ধরনের দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই এসব বিষয়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না দেখে প্রচলিত বিশ্বাস হিসেবে দেখা ভালো।

তারপরও সোনার গয়নার সঙ্গে যদি কারও পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা আবেগ জড়িয়ে থাকে, সেটি পরার ফলে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। আর সেই ভালো লাগাটিই অনেক সময় মনকে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে।

গয়না আসলে কতটা মন ভালো করতে পারে?

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গয়না কোনো মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নয়। শুধু একটি আংটি বা হার পরলেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা ঠিক নয়।

তবে পোশাক, রং, ব্যক্তিগত স্টাইল এবং প্রিয় জিনিসের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। নিজের পছন্দের কোনো গয়না পরলে নিজের চেহারা নিয়ে ভালো লাগা, আত্মবিশ্বাস বা আনন্দ তৈরি হতে পারে। আবার কোনো স্মৃতিবাহী গয়না পুরোনো সুখের মুহূর্ত মনে করিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ ‘ডোপামিন জুয়েলারি’কে একটি সহজ আনন্দের কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে—চিকিৎসা হিসেবে নয়।

নিজের জন্য নিজের গয়না বেছে নিন

মন ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে দামি গয়না প্রয়োজন নেই। হতে পারে সেটি খুব সাধারণ একটি রঙিন আংটি, ছোট কানের দুল, পুরোনো চুড়ি কিংবা প্রিয় মানুষের দেওয়া একটি লকেট।

মূল বিষয় হলো, সেটি পরলে আপনি কেমন অনুভব করছেন।

যেদিন মনটা একটু খারাপ, আত্মবিশ্বাস কম কিংবা নিজেকে একঘেয়ে লাগছে, সেদিন সাজের বাক্স খুলে এমন একটি গয়না বের করে নিতে পারেন, যেটি আপনাকে আনন্দ দেয়। পছন্দের পোশাকের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে নিন, আয়নায় নিজেকে দেখুন এবং নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন।

শেষ পর্যন্ত ডোপামিন জুয়েলারির সবচেয়ে বড় বিষয় হয়তো গয়না নিজে নয়— নিজেকে ভালো লাগানোর জন্য সচেতনভাবে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া। আর সেই ছোট্ট অভ্যাসই ব্যস্ত জীবনে কিছুটা আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 
  বিষয়:   ডোপামিন  জুয়েলারি  গয়না 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: