সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে দিনের বাকি সময়টা কীভাবে কাটবে। নিয়মিতভাবে কয়েকটি ছোট কাজ করার অভ্যাসই সকালকে আরও সুন্দর ও গোছানো করে তুলতে পারে।
ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি
দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে রাতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরে পানির প্রয়োজন কিছুটা পূরণ হয় এবং নিজেকে সতেজ মনে হয়। তবে, একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রয়োজন নেই; স্বাভাবিকভাবে, নিজের তৃষ্ণা ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো।
আলো-বাতাসে কিছুটা সময়
ঘুম থেকে উঠে ঘরের অন্ধকার পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ পড়ে না থেকে জানালা খুলে দিন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ সকালের আলো ও খোলা বাতাসে থাকুন। সকালের প্রাকৃতিক আলো ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট জানালার পাশে দাঁড়ানো, বারান্দায় যাওয়া কিংবা বাইরে একটু হাঁটাহাঁটি করা মনকে অন্যরকম প্রশান্তিও দেয়।
শরীরকে জাগিয়ে তুলতে হালকা নড়াচড়া
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর কিছুটা জড়তা অনুভব করতে পারে। এই জড়তা কাটাতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং, ধীরে হাঁটা বা শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়া করুন। এতে শরীর সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায় এবং মনও কিছুটা চাঙা হতে পারে। যাদের নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস আছে, তারা নিজেদের সক্ষমতা ও সময় অনুযায়ী সকালের ব্যায়ামের সময় বাড়াতে পারেন। তবে, নতুন করে ব্যায়াম শুরু করলে ধীরে শুরু করাই ভালো।
কয়েক মিনিট স্থির থাকুন
দিনের শুরুতেই মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিট চুপচাপ বসে থাকা, ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া কিংবা প্রার্থনা করার মতো অভ্যাস মনকে স্থির করতে সাহায্য করে। এই সময়টুকুতে দিনের ব্যস্ততা নিয়ে না ভেবে নিজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া যায়। কেউ চাইলে চোখ বন্ধ করে কয়েকবার ধীরে শ্বাস নিতে পারেন, আবার কেউ নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা বা ধ্যান করতে পারেন।
দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঠিক করে নিন
সকালেই পুরো দিনের বিশাল তালিকা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বরং দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু-তিনটি কাজ ঠিক করে নিন। কোন কাজটি আগে করতে হবে এবং কোন কাজটি পরে করা যাবে, তা নির্ধারণ করা থাকলে ব্যস্ততার মধ্যেও অগ্রাধিকার ধরে রাখা সহজ হয়। এতে একসঙ্গে অনেক কিছু করার চাপও কিছুটা কমে।
সকালের নাশতা এড়িয়ে যাবেন না
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালের নাশতা বাদ দেন। কিন্তু দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি দিতে সাহায্য করে। তাই সময়ের অভাবে নাশতা বাদ না দিয়ে সহজ ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। ডিম, রুটি, দুধ, দই, ফল, শাকসবজি, ওটস কিংবা অন্যান্য পছন্দের পুষ্টিকর খাবার দিয়ে নাশতা করতে পারেন। তবে সবার খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্রয়োজন এক নয়, তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করুন।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নয়
ঘুম থেকে উঠেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল কিংবা খবর স্ক্রল না করাই ভালো। এতে অনেকের মন অস্থির হয়ে যেতে পারে এবং নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগেই দীর্ঘ সময় ফোনের পেছনে চলে যেতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুম নয়
সকালে অ্যালার্ম বাজার পর আরও একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু বারবার অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয় এবং উঠে আরও বেশি ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই সম্ভব হলে এমন সময়ে অ্যালার্ম দিন, যাতে পর্যাপ্ত ঘুমের পর উঠে পড়া যায়।
অযথা তাড়াহুড়া নয়
অনেকেই সকালে উঠে তাড়াহুড়া করেন। ঘুম থেকে উঠতে দেরি, নাশতা তৈরি, পোশাক নির্বাচন, অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতি- সবকিছু একসঙ্গে করতে গিয়ে দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হয়। তাই সম্ভব হলে আগের রাতেই পোশাক, ব্যাগ কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে সকালে কাজের চাপ কমে এবং প্রস্তুত হওয়ার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। একেক সময় জীবনের পরিস্থিতি একেকরকম থাকে। তাই রোজকার সকাল একইরকমভাবে শুরু করা যায় না। তবু, যতটা সম্ভব সুন্দরভাবে সকাল শুরু করার চেষ্টা করুন। তাহলে পুরো দিন ভালো কাটার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সময়ের আলো/মহু