জুনিয়র এশিয়া কাপে দারুণ শুরু করেও শেষ আটে এসে থামতে হলো বাংলাদেশ নারী হকি দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনালের টিকিট পায়নি শারিকা রিমনের দল। একই সঙ্গে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের।
চীনের মোকি শহরে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল জাপান। তবে দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে দুই দলই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালালেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও লড়াই ছিল বেশ জমজমাট। ২১ মিনিটে জাপানের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক সানজিদা মনি। তবে কোয়ার্টারের শেষ দিকে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে এগিয়ে যায় জাপান। ইয়োশিনো হিরাইয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা।
তৃতীয় কোয়ার্টারে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। জাপানের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করে শারিকারা। এই কোয়ার্টারের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগও এসেছিল। বল ছিনিয়ে জাপানের গোলরক্ষকের সামনে একা হয়ে গিয়েছিলেন লনিমা নুপুর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্টিকের সঙ্গে বলের সংযোগ ঘটাতে না পারায় সুযোগটি কাজে লাগানো হয়নি।
চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতেই বাংলাদেশের আশা আরও কঠিন করে দেয় জাপান। মোমোকা সুজুকির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
গ্রুপপর্বে অবশ্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। কাজাখস্তান, পাকিস্তান, হংকং ও চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু জাপানের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হলো না।
জুনিয়র এশিয়া কাপ থেকে সেরা তিন দল ২০২৭ জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে। কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নেওয়ায় বাংলাদেশের সামনে আর তৃতীয় হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বিশ্বকাপে খেলার পথও বন্ধ হয়ে গেল।
সেমিফাইনালে স্বাগতিক চীনের মুখোমুখি হবে জাপান। অন্য সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিজয়ী দল। এই চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে সেরা তিন দলই পাবে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপের টিকিট।
সময়ের আলো/টিকে