অ্যানফিল্ডে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২–১ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। দারুণ প্রত্যাবর্তনে ম্যাচটি জিতেছে ইংলিশ ক্লাবটি। লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন দমিনিক সোবোসলাই ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আতলেতিকোর একমাত্র গোলটি করেছেন মার্কোস লরেন্তে।
শুরু থেকেই ম্যাচে দুই দলের আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যায়। প্রথম কয়েক মিনিটে লিভারপুল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আতলেতিকোও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট দারুণভাবে সামলান লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন। কিছুক্ষণ পর লিভারপুলের বারকোলা গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ইয়ান ওবলাক তা ঠেকিয়ে দেন।
১৭ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় আতলেতিকো। হুলিয়ান আলভারেজের তৈরি করা সুযোগ থেকে মার্কোস লরেন্তে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান। গোলের পর কিছু সময় আতলেতিকোই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ম্যাচে সমতা ফেরায় লিভারপুল। ৪০ মিনিটে রোনাল্ড আরাউহোর পাস থেকে দমিনিক সোবোসলাই ডান পায়ের শটে গোল করেন। গোলের পর লিভারপুল আরও চাপ বাড়ায়। বিরতিতে ১–১ সমতায় দুই দল মাঠ ছাড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ৫০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আতলেতিকোর জালে বল পাঠান। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পুরস্কার হিসেবে পাওয়া এই গোলেই প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় লিভারপুল।
এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আতলেতিকো। হুলিয়ান আলভারেজও কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেন। ৬৯ মিনিটে তাঁর লক্ষ্যে থাকা শট আলিসন ঠেকিয়ে দেন। শেষ দিকে আতলেতিকো একের পর এক আক্রমণ চালালেও লিভারপুলের রক্ষণ আর গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার আগে আতলেতিকোর চাপ থাকলেও লিভারপুল ব্যবধান ধরে রাখে। ৯০ মিনিটের পরও দুই দলই গোলের চেষ্টা করেছে, কিন্তু আর স্কোরলাইন বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
পরিসংখ্যানেও ম্যাচটির লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট। বল দখল ছিল সমান ৫০ শতাংশ করে। তবে গোলের সম্ভাবনায় কিছুটা এগিয়ে ছিল লিভারপুল, তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ১.৭৯৫, আতলেতিকোর ০.৬৯৫। লিভারপুল ১৪টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে, বিপরীতে আতলেতিকোর ৯ শটের ৪টি ছিল লক্ষ্যে।
সময়ের আলো/টিকে