মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান সংকটের মধ্যেই দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভারতে পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেও তিনি বৈঠক করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় বিষয়টি ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্রিকসের অংশীদার হিসেবে উভয় দেশ অভিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।
ব্রিকসে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান
শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ব বর্তমানে জটিল সময় ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে নিজস্ব জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড ও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, কোনো দেশ যেন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্য ব্যাহত করতে না পারে, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা দরকার।
পেজেশকিয়ানের মতে, ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশগুলোকে মার্কিন ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে বের করে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতেও ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক
এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পেজেশকিয়ান।
সেই বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট সংঘাত নিরসনে ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সহিংসতা বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ভারত ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই প্রথম ভারত সফর। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, হরমুজ প্রণালির অবরোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাব, এসব বিষয় সামনে রেখেই এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ভারত-ইরান বৈঠনে আঞ্চলিক শান্তি, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ডলারের আধিপত্য কমানোর মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ