ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের ভারত সফরে এসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা পরস্পরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। এ বছর এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের দেখা হয়েছিল।
বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ কর্মী চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনকে তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা ‘থিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। বইটিতে কৃষি ও কৃষকদের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
বৈঠক শেষে মোদি ও পুতিন রুশ প্রেসিডেন্টের গাড়িতে করে একসঙ্গে যাত্রা করেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তারা একই গাড়িতে ভ্রমণ করলেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত-রাশিয়া সম্মেলনে যোগ দিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন পুতিন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে এবারই প্রথম সরাসরি অংশ নিচ্ছেন তিনি।
পুতিনের এই সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে তার বৈঠকও হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে মোদি পুতিনকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে’ এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
শুক্রবারের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
পুতিনের ভারত সফরের আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ভারতীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিশ্বের চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে ইউক্রেন সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও মোদিকে জানাবেন পুতিন।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দুই নেতা চলমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হয়েছিল।
এদিকে, ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। এতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়েও নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/ইউএমএইচ