প্রেমিকার পেছনে খরচ ৪ কোটি ৫৬ লাখ, ‘ব্রেকআপের’ পর আদালতে প্রেমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সম্পর্ক থাকাকালে প্রেমিকার পেছনে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার দেওয়া থেকে শুরু

2026-09-11T20:48:15+00:00
2026-09-11T20:48:15+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
প্রেমিকার পেছনে খরচ ৪ কোটি ৫৬ লাখ, ‘ব্রেকআপের’ পর আদালতে প্রেমিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম 
সিঙ্গাপুর। সংগৃহীত ছবি
সম্পর্ক থাকাকালে প্রেমিকার পেছনে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার দেওয়া থেকে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়াম-বিভিন্ন খাতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেন তিনি। প্রতি সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭ দশমিক ৪৪ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা। 

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই অর্থ খরচ করেছিলেন এবং এগুলোকে ঋণ হিসেবে দেখানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।  

সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি তার কাছে বিভিন্ন সময় সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, তার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার। 

তবে লি আদালতে বলেন, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি। এগুলো ছিল ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে দেওয়া উপহার।

২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলাটি করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে দেওয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন আগরওয়ালের দাবি নাকচ করে দেন। 

বিচারক বলেন, কথিত ঋণের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ আগরওয়াল উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি যে তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তার স্বীকৃতিও তিনি দেখাতে পারেননি। 

বিচারকের পর্যবেক্ষণ, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখিয়েছেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তিনি তাকে উপহার দিতেন এবং এসব অর্থ ফেরত চান না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।


বিচারক বলেন, প্রমাণে স্পষ্ট যে- আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছিলেন।  

রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার জীবনযাপনে ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লি তার মতো আর্থিক সামর্থ্যের অবস্থানে ছিলেন না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উপহার নিতে অনীহাও দেখিয়েছিলেন।

রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। ‘প্রেম ঘৃণায় পরিণত হলে স্বর্গেও তার মতো তীব্র কোনো রোষ নেই; আর অবহেলিত নারীর ক্ষোভের মতো ভয়ংকর কোনো ক্রোধ নরকেও নেই।’-ওই পঙ্‌ক্তির পর বিচারক মন্তব্য করেন, এমন আবেগ শুধু কোনো একটি লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সিঙ্গাপুরে প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে আদালতে এমন মামলা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আরেক সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

কে কাওশিগান নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, ওই নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। নিজেকে কথিত হয়রানি থেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি। 

সূত্র : বিবিসি


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   প্রেমিকার পেছনে ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ  ‘ব্রেকআপের’ পর আদালতে প্রেমিক 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: