ধনী দেশগুলোর জলবায়ু সংকটের খেসারত দিচ্ছে নেপাল, বাড়ছে বিলিয়ন ডলারের চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাণিজ্যপথগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তাদি নদীর ওপর একটি নতুন সেতু

2026-09-11T22:13:09+00:00
2026-09-11T22:13:09+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ধনী দেশগুলোর জলবায়ু সংকটের খেসারত দিচ্ছে নেপাল, বাড়ছে বিলিয়ন ডলারের চাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম 
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাণিজ্যপথগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। ছবি : সিএনএন
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাণিজ্যপথগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তাদি নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী সেতুটিকে বলছে ‘আশার সেতু’।

তবে নেপালের সামনে এখন আরও অনেক আশার আলো প্রয়োজন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটি যখন অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু পুনর্গঠন কাজেই কমপক্ষে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এই হিসাবের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া পরোক্ষ ক্ষতিগুলো ধরা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব অবকাঠামোর ওপরই নেপালের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন অনেকাংশে নির্ভরশীল। 

নেপাল ইনস্টিটিউট ফর পলিসি রিসার্চের নন-রেসিডেন্ট ফেলো এবং নেপালের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণাকারী নিশচল ধুঙ্গেল বলেন, এই আকস্মিক বন্যা কোনো একটি খাতের দুর্যোগ নয়। 

তার মতে, এর প্রভাব কৃষি, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাণিজ্যপথ, পর্যটন, ব্যবসা ও বীমা, সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ পরিবারের ক্ষতি থেকে শুরু করে পুরো দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি বড় দেশ ইতোমধ্যে নেপালকে মানবিক ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নেপালি সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন সেতুটির একটি ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, দুর্যোগ ধ্বংস করেছে— আমরা আবার আশার সেতু পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করছি। 

তবে নেপাল আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানাচ্ছে অন্য একটি কারণেও। দেশটির আশঙ্কা, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহ গলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়াবহ বন্যা আরও ঘন ঘন হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের পেছনে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা ভূমিকা রেখেছে, যার ফলে ভূমিধস সৃষ্টি হয়।

এই দুর্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের ঠিক কতটা ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন। তবে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে নেপালের হিমবাহ এবং পাহাড়ের বরফে ঢাকা ঢালগুলো ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

নেপালের নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই দুর্যোগের জন্য তারা বড় দেশগুলোর দায় দেখছেন এবং ক্ষতিপূরণের দায়িত্বও তাদের ওপর চাপাতে চান। কারণ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র ০.১ শতাংশের মতো, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিতে দেশটিকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। 

এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য গঠিত জাতিসংঘের একটি তহবিল থেকে নেপাল ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নেপালের অবদান অত্যন্ত কম। অথচ অন্যদের নিঃসরণের কারণে তৈরি সমস্যার পরিণতি আমাদের বহন করতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে নেপালকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। 

‘মূল্য দিচ্ছে’ নেপাল

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মূলত মধ্য নেপালের কয়েকটি উপত্যকা জেলায় কেন্দ্রীভূত হলেও, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক যোগাযোগপথগুলো কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি ঝুঁকি নেপালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বহু বছর ধরে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে নেপালের জিডিপি প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে, বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল গবেষক সোনিয়া রিজাল বলেন, নেপালের মানুষের মধ্যে এখন একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যে জলবায়ু সংকট তৈরিতে দেশটির ভূমিকা খুবই সামান্য, সেই সংকটের মূল্য এখন নেপালকেই দিতে হচ্ছে। 

ভবিষ্যতে আবার বন্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় পুনর্গঠনের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ নতুন অবকাঠামোকে দুর্যোগ সহনশীল করে তুলতে খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে অর্থায়ন ও বীমার খরচও বাড়তে পারে। 

রিজাল বলেন, এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একদিকে দ্রুত ও কম খরচে কাজ শেষ করার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে এমনভাবে নির্মাণ করার প্রয়োজন রয়েছে যাতে ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই এসব নির্মাণ করা কঠিন। আর যখন একের পর এক দুর্যোগ আঘাত হানে, তখন কাজটি আরও কঠিন হয়ে যায়। 

নেপাল ইকোনমিক ফোরামের পরিচালক সুদীপ ভাজু বলেন, বন্যার পর ভবিষ্যতের অবকাঠামো নির্মাণে আরও কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। ফলে নির্মাণের খরচও বাড়বে। 

তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা ঝুঁকির কারণে পুনর্গঠনের খরচ ধ্বংস হওয়া অবকাঠামোর মূল্যের দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

কিছু প্রকল্প, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা, স্থায়ীভাবে বাতিলও হয়ে যেতে পারে। এতে ভারত ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিদ্যুৎ রফতানির মাধ্যমে অর্থনীতি বহুমুখী করার নেপালের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।  

ভাজু বলেন, আমরা আরেকটি টাইম বোমার জন্য অপেক্ষা করছি, তাই না? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— আমরা কীভাবে পুনর্গঠন করব?

ক্ষতির পুরো হিসাব করা কঠিন

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এলাকা থেকে অনেক দূরে রাজধানী কাঠমান্ডুতেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

ভাজুর মতে, ফলমূল ও সবজির মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে গ্যাস পাওয়া গেলে এর দাম ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, সরকার যদি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে অবশ্যই কালোবাজার তৈরি হবে। এর প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য, সবকিছুর ওপর পড়বে। 

নেপালের অনেক ব্যবসার জন্য এই বন্যা আগের দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

২০১৫ সালের ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর চীনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নেপালের বড় একটি অংশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উত্তরের রাসুওয়াগাধি এলাকায় চলে আসে।

সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি এই রাসুওয়াগাধি।

কিন্তু গত মাসের এই ধ্বংসযজ্ঞ ছিল দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার জলবায়ুজনিত বন্যায় রাসুওয়াগাধি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।

কাঠমান্ডুভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী ও বিল্ডিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভি টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালোনি শেঠিয়া বলেন, তার ব্যবসা দুই দফা বন্যারই ক্ষতির শিকার হয়েছে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যপথ এখন সীমিত হয়ে পড়ায় কোরালা সীমান্তপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য চালকদের দিতে হচ্ছে প্রায় চার গুণ বেশি খরচ। তবে সেখানে পণ্য পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং অপেক্ষার সময় ক্রমেই বাড়ছে।

চীনের গুয়াংজু বন্দর থেকে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন করলে পণ্য পৌঁছাতে আরও তিন সপ্তাহ সময় লাগছে।

শেঠিয়া বলেন, এই অনিশ্চয়তাই নিজেই একটি খরচ। অতিরিক্ত তিন সপ্তাহের খরচ কাউকে না কাউকে বহন করতে হবে। সাধারণত আমদানিকারকের লাভের অংশ কমে যায় অথবা ক্রেতাকে বেশি দাম দিতে হয়, অনেক সময় দুটিই হয়। 

বন্যার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে সমস্যা, অর্থ পেতে দেরি এবং নগদ অর্থের সংকটের আশঙ্কা করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করা ভি টেকও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কবে তার পাওনা টাকা পাবে, তা এখন বাস্তবসম্মতভাবে অনুমান করাও সম্ভব হচ্ছে না।


দাশাইনের আগেই বড় ধাক্কা

বন্যার কারণে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে এমন সময়ে সামনে এসেছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব দাশাইন।

১৫ দিনব্যাপী এই হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হয় প্রতিবছর, গত বছর বড় আকারের শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে উৎসবকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি পছর নেপালে ভোক্তাদের ব্যয় এবং পর্যটন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

শেঠিয়া বলেন, গত বছর বড় আকারের শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে উৎসবকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ী এবার ঋণ করে পণ্য কিনেছিলেন। কিন্তু সেই পণ্যও বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে।

পর্যটনেও পড়তে পারে বড় প্রভাব

বন্যা ও ধ্বংসের কারণে বিদেশি পর্যটকরাও নেপাল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

নেপালের জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে এবং এই খাতে ১০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।

নেপাল ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর বিদেশি পর্যটক আগমন ২৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। আর ২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলনের পর বিদেশি পর্যটক আগমন কমেছিল ১৮ শতাংশ। 

শেঠিয়া বলেন, এভাবেই একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যপথের ঘটনা জাতীয় অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়। যে ব্যবসাগুলো কখনো বন্যার পানির কাছাকাছিও ছিল না, শেষ পর্যন্ত তারাও ক্ষতির একটি অংশ বহন করে। অথচ পুনর্গঠনের কোনো হিসাবেই সেই ক্ষতির আলাদা কোনো হিসাব থাকে না। 

সূত্র : সিএনএন 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   নেপাল  বন্যা 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: