এক ক্লিকেই ভুয়া খবরের বন্যা, আ. লীগের পক্ষে এআই অপপ্রচারের নেটওয়ার্ক শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে প্রায় এক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর

2026-09-11T23:47:19+00:00
2026-09-11T23:48:30+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এক ক্লিকেই ভুয়া খবরের বন্যা, আ. লীগের পক্ষে এআই অপপ্রচারের নেটওয়ার্ক শনাক্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম  আপডেট: ১১.০৯.২০২৬ ১১:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রায় এক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার চালানো একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে মার্কিন এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গাইবান্ধার এক ব্যক্তি তাদের এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুলসংখ্যক ভুয়া বাংলা খবর ও ভিডিও তৈরি করতেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত অ্যানথ্রোপিকের ১৫৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ‘এআই-এর অপব্যবহার শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ : সেপ্টেম্বর ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অ্যানথ্রোপিকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ সংকেতে চিহ্নিত নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি) বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণাত্মক কনটেন্ট ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কনটেন্টের একটি অংশ ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ছিল। তবে এর পেছনে কোনো দেশের সরকার বা প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুরো প্রতিবেদনে ভারতের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে শুধু ওই একটি বাক্যে।

যেভাবে চলত অপপ্রচার

অ্যানথ্রোপিক জানায়, নজরদারি ও বিধিনিষেধ এড়াতে ওই ব্যক্তি ১৬ মাসে ক্লডের ২৯টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। ‘fake news 3.py’ নামের একটি পাইথন স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে এক ক্লিকেই তৈরি করা হতো ১৫টি ভুয়া খবরের শিরোনাম, তিনটি বিভ্রান্তিকর অনুচ্ছেদ ও ১৫টি ছবি তৈরির নির্দেশনা। এভাবে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি ভুয়া শিরোনাম ও ৩০০টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক খবর তৈরি করা হয়।


পরে এসব কনটেন্ট ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। গ্রামীণ ও কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুজব ছড়ানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যবহারকারীর অবস্থান গোপন রাখতে তৃতীয় পক্ষের ভিপিএন বা প্রক্সি ব্যবহার করা হতো। এমনকি ইউটিউবের ভিডিওগুলো এক মাস আগেই প্রকাশের জন্য নির্ধারণ করে রাখা হতো।

অ্যানথ্রোপিকের দাবি, ওই ব্যক্তির নিজস্ব নোট থেকে জানা গেছে, তিনি এসব তথ্যকে মিথ্যা হিসেবে জানতেন। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক ভাষায় তৈরি করা হতো।

যাদের লক্ষ্য করা হতো

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া কনটেন্টে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটিকে ‘তালেবান ধাঁচের শাসন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে তুলে ধরা, তাদের ওপর কথিত হত্যাচেষ্টার গল্প এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গোপন আঁতাতের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। এই পুরো সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকায় অপপ্রচারটি মূলত বিরোধী দলের রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক কয়েকটি চ্যানেলে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে এসব ভিডিও প্রচারিত হলেও অ্যানথ্রোপিক সব প্রকাশনা অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে পারেনি। তাদের নিজস্ব পরিসরের বাইরে এসব কনটেন্ট কতটা ছড়িয়েছে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নেটওয়ার্কটি শনাক্তের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক। পাশাপাশি এর আচরণগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তে ব্যবস্থা তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে এআই অপব্যবহারের সাতটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে—সাইবার হামলা, অপপ্রচার ও প্রভাব বিস্তার, নজরদারি, অস্ত্র উন্নয়ন, জৈব অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং এআই মডেল চুরি। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, এআই আরও শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ঝুঁকিও বাড়বে। আগে যে ধরনের প্রচারণা চালাতে একটি পুরো দলের প্রয়োজন হতো, এআইয়ের কারণে এখন তা একজন ব্যক্তির পক্ষেও করা সম্ভব।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   ভুয়া খবর  বন্যা  আ. লীগ  এআই  অপপ্রচার  নেটওয়ার্ক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: