বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান জি৭-এর চেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করেছে ব্রিকসের দেশগুলো। বিপরীতে জি৭-এর অবদান ২৯ শতাংশ।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন পুতিন। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর জায়গা এখন নতুন প্রবৃদ্ধির শক্তিগুলো দখল করছে।
পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের হারানো প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ফিরে পেতে অন্য অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কখনো পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর বন্ধের চেষ্টা কিংবা সমুদ্রপথে জাহাজ আটকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, দেশটির বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিশ্বের অন্য সব দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মোট সংখ্যার চেয়েও রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দ্বিগুণ।
তবে এসব চাপের মধ্যেও রাশিয়া ব্যবসা, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও প্রকৌশল খাতের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, এতে রাশিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ছে।
ব্রিকসের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেন, জোটের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব দেশের সম্মিলিত অংশ বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি।
মোদি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় আড়াই গুণ বাড়লেও ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি প্রায় সাড়ে চার গুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তি প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন মোদি। বৈঠকে দুই নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির চলাচল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বৈঠকে উঠে আসে। এ সময় মোদি আবারও বলেন, সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে পুতিন মোদিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন মোদি। তবে সফরের তারিখ কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরে নির্ধারণ করা হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গেও এর আগে মোদি বলেছিলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয় মানবতা তত পিছিয়ে পড়ে। দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের বদলে শান্তির পথে এগোনোই মানবতার জন্য প্রয়োজন।